রপ্তানি বন্ধের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ইত্তেফাককে বলেছেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়দার আলী ইত্তেফাককে বলেন, আশা করছি, সাড়ে ৫৫ হাজার টন পেঁয়াজ দ্রুত দেশে আসবে। এই পেঁয়াজ আসলে সমস্যা অনেকটাই নিরসন হবে। জানা গেছে, পেঁয়াজ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কারসাজি করতে না পারে সেজন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যৌক্তিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং করার জন্য ইতিমধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল রাজধানীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের এক দিনের মধ্যে কেজিতে কীভাবে ৮০ টাকা বাড়ে? ব্যবসায়ীরা বাড়তি লাভের আশায় কোনো নৈতিকতা দেখালেন না। এটা ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ নয়। তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘নিত্যপণ্যের সংকট তৈরি হলেই অনেক ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ীদের বুঝতে হবে দেশের জনগণের জন্যই ব্যবসা। তিনি বলেন, ‘লাভ ছাড়া তো ব্যবসা করবেন না। কিন্তু যে পণ্যের মূল্য ১২০ টাকা, এক রাতের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ২০০ টাকা কীভাবে হয়?
পেঁয়াজের দাম বেশি রাখায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গতকাল ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এরমধ্যে রাজধানীতে চারটি টিম বাজার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় সারা দেশে ৮০ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান আব্দুল জব্বার মণ্ডল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক রাখতে আমরা রাজধানীর বাজারে জোরালো মনিটরিং করছি। গতকাল রাজধানীতে পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় আড়ত শ্যামবাজারে অভিযান চালানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযানে এলসি করা আমদানিকৃত ও দেশি পুরাতন পেঁয়াজ পাওয়া না গেলেও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাওয়া গেছে। এসব পেঁয়াজ আড়তে ১২৫ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।