ঋণ অনিয়ম, ঋণ খেলাপ, লুট ও পাচার ইত্যাদি কারণে ব্যাংক খাতের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গীন। এ মুহূর্তে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট প্রকট। দেশের ৬১টি ব্যাংকের বেশির ভাগই ধারদেনা করে দৈনন্দিন খরচ মেটাচ্ছে। এত বেশি ব্যাংকের ধার করার নজির অতীতে নেই। প্রকাশিত খবরে উল্লেখ আছে, পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন সেবা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ১৪টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রেকর্ড করেছে। শেয়ার বাজারে মন্দা, বিনিয়োগ স্থবির, আমদানি সীমিত, চলমান মূল্যস্ফীতি সীমার বাইরে। সব মিলে দেশের অর্থনীতিতে মহা বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক খাত শক্তিশালী ও গতিশীল থাকলে এ অবস্থা দেখা দিতো না। কোনো কারণে কোনো ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিলে সামাল দেওয়া সম্ভব হতো। অর্থনীতি এখন যে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে তাতে ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুনীতি, অর্থ পাচার বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা দেখানো অত্যাবশ্যক। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন দুঃখ করে বলেছেন, শক্তিশালী একটি ব্যাংক খাতের আমাদের দীর্ঘ দিনের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। উল্লেখ্য, ব্যাংক খাত কিছু সংখ্যক ব্যক্তির কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। তারা ব্যক্তি স্বার্থে ব্যাংকগুলো ব্যবহার করছে। এটা এখাতের সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। একথা কারো অজানা নেই, সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পায় না। নানা ওজর-আপত্তি দেখিয়ে তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়, বঞ্চিত করা হয়। অথচ ব্যাংকের মালিক-মোক্তার, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী ইত্যাদির ঋণ পেতে কখনোই অসুবিধা হয় না। নিয়ম-বিধি বেতোয়াক্কা বা অমান্য করে হলেও তাদের ঋণ দেওয়া হয়। ঋণ অনিয়মের অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে নিয়ম-বিধি লঙ্ঘন করে। ব্যাংক খাতে নিয়ম-বিধি কম নেই। কিন্তু তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
বন্ধ করতে হবে ব্যাংকের অর্থ লোপাট
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট-বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। গত শনিবার সিপিডির...