ডিএনসি ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার যুবকের প্যান্টের পকেটে জিপারযুক্ত দুটি পলিপ্যাকের ভেতর দেড় হাজার করে মোট ৩ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবারে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে। এই কারবারে তার সঙ্গে যুক্ত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ডিএনসি সূত্র জানায়, সিরাজুল ইসলামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়ায়। এইচএসসি পাস এই যুবক অল্প সময়ে অনেক টাকা উপার্জনের লোভে নেমে পড়ে ইয়াবা কারবারে। প্রথমে সে কক্সবাজারের ইয়াবার কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। এর পর ঢাকা ও আশপাশের জেলার কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ৩-৫ হাজার পিস ইয়াবার চালান এনে সরবরাহ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে সে জানান, জব্দ করা ইয়াবা সে কক্সবাজারের টেকনাফে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকায় কিনেছিল। এগুলো পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল গাজীপুরের মাওনার এক ইয়াবা কারাবারির কাছে। বিনিময়ে পেত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এক চালানেই তার লাভ হতো ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে গড়ে দু’বার সে ঢাকায় আসে। সে হিসাবে আটটি চালানে মাসে তার আয় ৩-৪ লাখ টাকা।
ডিএনসি মিরপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলা দিতে কাস্টমস কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আসছিল সিরাজুল। ধরা পড়ার পর স্বীকার করে, কার্ডটি সে নিজেই একটি দোকান থেকে বানিয়ে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কাস্টম হাউসের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ইয়াবা কারবারে জড়ানোর আগে সে একজন ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টের সঙ্গে কাজ করত। সেই সূত্রে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। সেখান থেকেই ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে অপরাধে জড়ানোর চিন্তা তার মাথায় আসে।
ডিএনসির এই কর্মকর্তা জানান, সিরাজুলের চলাফেরা, কথাবার্তা এবং অভিজাত পরিবহনে যাতায়াতের কারণে সন্দেহ করার সুযোগ ছিল না। তবে এবার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য থাকায় সায়েদাবাদে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাস থামানো হয়। সেখানে যাত্রী হিসেবে ছিল সে। তল্লাশি করতে চাইলে প্রথমে সে নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং অযথা হয়রানি না করার কথা বলে। তার পরও তাকে তল্লাশি করে পাওয়া যায় ইয়াবার চালান। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালেও সে তিনবার মাদকসহ ধরা পড়েছে। ওই সব ঘটনায় ঢাকার মিরপুর, পল্লবী ও আশুলিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে।