‘ওসি নিবে অর্ধেক, আমার ভাগে পড়ব মাত্র ৫%’ শিরোনামে শনিবার সমকালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে কয়েকটি ভয়েস রেকর্ডের বরাত দিয়ে দুই নারীকে ফাঁসিয়ে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়। তাতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারদের স্বজনকে বলছেন–‘এই অ্যাকশনের ভাগটা কে নিবে? ওসি নিবে অর্ধেক...হেই প্যারা দিচ্ছে আমারে, তুই অর্ধেক খা। আমি তো খামুই।...কিন্তু সবাই আছে না? সবার ভাগ করতে করতে আমার ভাগে মাত্র ৫ ভাগ পড়ব।’
অবশ্য পল্লবী থানার ওসি বলছেন, ওই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিযোগ ওঠার পর তিনি জানতে পারেন। তখন থেকেই বিষয়টির খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের পল্লবী অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও সহকারী কমিশনারকে সদস্য রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত এসআই আনোয়ারুল ইসলাম দাবি করেন, কণ্ঠটি তাঁর নয়। যদিও তাঁর কণ্ঠস্বরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত রেকর্ডের কণ্ঠের সাদৃশ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, মামলা লেখার সময় আসামির স্বজনরা কথা বলেছেন, তিনিও উত্তর দিয়েছেন। তবে তিনি টাকা চাননি বা নেননি। গ্রেপ্তার করায় ক্ষোভ থেকে স্বজনরা মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৮ জানুয়ারি রাতে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়াবাদ এলাকার বি–ব্লকের ৬ নম্বর লাইনের ১৫ নম্বর বাসা থেকে ফাতেমা বেগম ও রেজিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশ। ফাতেমার বোন পাপিয়া আক্তারের ভাষ্য, তাঁকে ডেকে নিয়ে তল্লাশির নাটক সাজিয়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা আছে বলে দাবি করে পুলিশ। এরপর মামলায় ৫০০ পিস ইয়াবা জব্দ দেখানোর শর্তে ২ লাখ টাকা নেন। শেষপর্যন্ত মামলায় ৫০০ পিসের কথাই উল্লেখ করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন কারাগারে আছেন।