calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / সম্পাদকীয় / পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচন এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
সম্পাদকীয় বিশেষ প্রতিবেদন

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের মুখোশ উন্মোচন এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ

বিশ্বের উপর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা একটি নির্মম চরম একপাক্ষিক বর্ণবাদী ব্যবস্থা হিসেবে আবারো বিশ্ববাসির সামনে উলঙ্গভাবে ধরা পড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রায় প্রতিটি আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিরোধ-সংঘাতে...

person
বাংলার ডাক verified
Staff reporter
schedule প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ • সকাল ১১:১৭
history আপডেট: ২ বছর আগে
timer ২৩ মিনিট পড়ার সময়
visibility ৪০৯ বার পঠিত

ইউক্রেন যুদ্ধের আগ পর্যন্ত সাম্প্রতিক তিন দশকের প্রায় সবগুলো আঞ্চলিক যুদ্ধের নেপথ্যে ছিল পশ্চিমাদের ইসলামোফোবিক এজেন্ডা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করে জায়নবাদী ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার সম্প্রসারণবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। জায়নবাদী থিঙ্কট্যাঙ্ক ও মিডিয়ার মিথ্যা প্রোপাগান্ডার সূত্রে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের কাছে ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন বা ডাব্লিউএমডির মজুদ থাকার অজুহাত তুলে ইরাকে ন্যাটোর সামরিক আগ্রাসন ও ইরাক দখল করে নেয়া, কিংবা আমেরিকায় নাইন-ইলেভেন বিমান হামলায় আলকায়েদা ও তালেবানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জর্জ বুশের ক্রুসেড এবং আফগানিস্তান দখল করে নেয়ার পেছনে একই জায়নবাদী রাজনৈতিক এজেন্ডা সক্রিয় ছিল। হাজার কোটি ডলারের সমর সজ্জা ও একের পর এক দেশ দখল করেও যেমন মুসলিম বিশ্বকে পদানত করার খায়েশ সফল হয়নি, তেমনি প্রতিটি যুদ্ধেই শহিদী তামান্নায় মুসলমান প্রতিরোধ যোদ্ধারা জীবনবাজি রেখে দখলদার পশ্চিমা বাহিনীকে পর্যুদস্ত ও পরাস্ত করে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের এজেন্ডা ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কোনো যুদ্ধেই পশ্চিমা ও তাদের প্রক্সি বাহিনীগুলো সুবিধা করতে না পারলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবকাঠামো ধ্বংস, নির্বিচার বোমা হামলায় হত্যাকা-, খেত-খামার, উৎপাদন ব্যবস্থা ধ্বংস ও তেলক্ষেত্রগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি ডলারের সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা অনেকটা সফল হয়েছে। আইএস এবং ইরানের পারমানবিক হুমকির ধোঁয়া তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চিমা বশংবদ শাসকদের কাছে শত শত বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রি ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়েছে। সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেনে হুতিদের উপর আক্রমণ করে এসব সমরাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়েছে। যদিও সম্মিলিত বাহিনীর হুতিবিরোধী আগ্রাসন শুরু থেকেই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। দুই দশক ধরে পশ্চিমা আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের পর আফগান তালিবান, হুতি, ইসরাইলী আইডিএফ’র আগ্রাসনে হিজবুল্লাহ-হামাসের মত প্রতিরোধ গ্রুপগুলো বিস্ময়করভাবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলের প্রধান ও চুড়ান্ত লক্ষ্য ইরান। আট বছরব্যাপী ইরান-ইরাক যুদ্ধের ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমারা বুঝেছিল, গতানুগতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি আক্রমণ করে ইরানকে কাবু করা সম্ভব নয়। গত ৭ দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কার নেপথ্যে ইসরাইলের মাসল পাওয়ার ও সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসী নীতি প্রধান ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সব কনভেনশন উপেক্ষা করে ইসরাইল নেগেভ মরুভূমিতে পারমানবিক সমরাস্ত্র ভা-ার গড়ে তুলেছে। ষাটের দশক থেকে ইসরাইলের পরমানবিক অস্ত্র নিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের জিজ্ঞাসা ও অস্বস্তি বিরাজ করলেও পশ্চিমা দেশগুলো কখনো এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি। বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ ও পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রকল্পের আলোচনায় ইসরাইলী সমরাস্ত্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রসঙ্গ আসলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা ও ভেটোর কারণে তা বারবার ভেস্তে গেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে সই করা এবং নিজেদের পরমাণু গবেষণা প্রকল্পগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখলেও দশকের পর দশক ধরে ইরানের উপর পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো স্বাধীনচেতা, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায়না। পঞ্চাশের দশকে কমিউনিস্ট ফোবিয়ায় আক্রান্ত মার্কিনীরা সিনেটর জোসেফ ম্যাকার্থির কমিউনিজম বিরোধী উগ্রপন্থা অবলম্বনের মধ্য দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার কথিত কমিউনিস্ট চীনাদের বের করে না দিলে চীনের প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উত্থান হয়তো এতটা ত্বরান্বিত হতো না। নাৎসীদের প্রোপাগান্ডা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে জয়লাভ করেই পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তি মূলত হিটলারের ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডা কৌশলকেই নিজেদের পুঁজিবাদী স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে কাজে লাগিয়েছিল। এখনো পশ্চিমারা প্রোপাগান্ডার সে ধারাতেই এগিয়ে চলেছে। নানা জুজু দেখিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি-বৈরিতার সৃষ্টি এবং ইসলামোফোবিক এজেন্ডায় পশ্চিমা বিশ্বে আইনগত বৈষম্য ও আভ্যন্তরীণ বর্ণবাদী রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত হিটলারের নাজি পার্টির অনুকরণ-অনুসরণ মাত্র। জায়নবাদী ইহুদিরা হলোকাস্টের গল্প শুনিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অনুগ্রহ অনুকম্পা ও প্রত্যক্ষ মদত-পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ফিলিস্তিনী আরবদের জমি দখল করে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই তারা উদ্বাস্তু আরবদের নিশ্চিহ্ন করতে ৭৫ বছর ধরে এথনিক ক্লিনজিং পলিসির বাস্তবায়ন করছে। চারদিক আরব রাষ্ট্রবেষ্টিত ইসরাইলের পক্ষে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন কিংবা প্রতিরোধ সংগ্রামকে স্থায়ীভাবে দমিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদের সব কৌশলগত রাজনৈতিক-সামরিক এজেন্ডা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তারা ফিলিস্তিনি নিধনে হলোকাস্টের মতো নৃশংস পন্থা গ্রহণ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলীদের অনবরত মানবাধিকার লঙ্ঘন, আল আকসার পবিত্রতার ঐতিহ্যকে পদানত করা এবং অব্যাহত বিমান হামলা, টার্গেটেড কিলিং ও গণহত্যার অব্যাহত প্রক্রিয়ায় ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের অতর্কীত অভিযান একটি অনিবার্য পরিনতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থার প্রগলভতা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে হামাসের দুর্ধর্ষ অপারেশন আল আকসা ফøাড পশ্চিমাদের সুদীর্ঘ পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা জায়নবাদের দুর্গ তছনছ করে দিতে সক্ষম হয়েছে। পঁচাত্তর বছর ধরে চলা আগ্রাসি দখলবাজি ও নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও লাখ লাখ ফিলিস্তিনির বাস্তুচ্যুতির ঘটনা পশ্চিমাদের ভ- সভ্যতা ও মানবতাবাদের মুখোশে কোনো রেখাপাত করতে না পারলেও ৭ অক্টোবরে হামাসের প্রত্যাঘাতে তাদের মুখোশের আড়ালে রক্তচক্ষু ও শিশু হন্তারকের আসল চরিত্র আরেকবার বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় যর্থাথই বলেছেন, হামাসের এই হামলার ঘটনা শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়নি। এটি দীর্ঘদিনের আগ্রাসন নিপীড়নের প্রত্যক্ষ পাল্টা প্রতিক্রিয়া। পশ্চিমা সা¤্রাজ্যবাদীদের পাশাপাশি ইহুদি ব্যাংকার ও বাণিজ্য জায়ান্টদের প্রত্যক্ষ মদতে অঢেল সম্পদের ভা-ার নিয়ে ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়েছিল। যেখানে ঔপনিবেশিক শোষণ-লুন্ঠণের কারণে আফ্রিকা ও এশিয়ার কোটি কোটি শিশুর খাদ্য, শিক্ষা, বাসস্থানের মতো ন্যুনতম মোলিক চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, এসব দরিদ্র দেশের মানুষের সাহায্যে হাত বাড়ানোর বদলে দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতি বছর ইসরাইলকে তিন-চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সাহায্য দেয়া হচ্ছে। সামরিক শক্তির দাপটে গড়ে তোলা ইসরাইলকে তার প্রতিবেশি আরবদের সাথে সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে রিকনসিলিয়েশন ও অভিযোজনের ব্যবস্থা না করে তাকে ক্রমেই সামরিকভাবে শক্তিশালী ও আগ্রাসি শক্তিতে পরিনত করা এবং প্রতিবেশিদের ভূমি দখলের মাধ্যমে চাপে রাখার পাশাপাশি উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রাখার কৌশলকে ইঙ্গ-মার্কিন সা¤্রাজ্যবাদীরা মদত দিয়ে চলেছে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজাসহ সমগ্র ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইলের নির্বিচার যুদ্ধাপরাধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যার সমর্থনে ইঙ্গ-মার্কিনীদের ভূমিকা সভ্য দুনিয়ার মানুষকে বিস্মিত, লজ্জিত ও বিক্ষুব্ধ করেছে। আকাশ থেকে হাজার হাজার টন বোমা ফেলে হাজার হাজার শিশু-নারী ও বেসামরিক লোক হত্যার সাথে সাথে একটি জনপদের সব ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-গির্জা, ফসলের ক্ষেত, খামার, পানির উৎস, বিদ্যুত, জ্বালানি, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গাজার পুরো জনগোষ্ঠিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার যে বর্বরতা ইসরাইলীরা দেখাচ্ছে, তার নজির প্রাচীন বা মধ্যযুগেও বিরল। আমেরিকা ও ইউরোপের প্রতিটি শহরে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সমর্থনে হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব দেশের শাসকরা স্পষ্টতই দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও মানবতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে একটি পরিকল্পিত গণহত্যায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরাই আবার বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞার জুজু সামনে রেখে দেশে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নানা রকম স্বাধীনতার ছবক ফেরি করে বেড়াচ্ছে!

জগৎ-সংসারের সবকিছুই সামর্থ্যবান মানুষ কিংবা শক্তিশালী জাতির নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। সাম্প্রতিক করোনা পেন্ডেমিক কিংবা প্রতিটি অসম যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি থেকে তা সহজেই বোধগম্য হয়ে উঠতে পারে। শত বিলিয়ন ডলারের ওয়ার থিয়েটার সাজিয়ে ২০ বছর ধরে যুদ্ধ করেও রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ ও দুর্বল অর্থনীতির দেশ আফগানিস্তানের তালেবানদের পরাস্ত করতে পারেনি পশ্চিমারা। ক্ষুদ্র গাজা উপত্যকায় ৪ মাসে যে পরিমান বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তার ধ্বংস ক্ষমতা অন্তত ৪টি পরমাণু বোমার সমান বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। প্রায় ২৮ হাজার ফিলিস্তিনির মৃত্যু এবং ৭০ হাজার মানুষকে আহত করে, ২০ লক্ষাধিক মানুষকে মাসের পর মাস ধরে দুির্ভক্ষের মধ্যে ঠেলে দিয়ে নজিরবিহীন স্থল অভিযান চালিয়ে একজন ইসরাইলী জিম্মিকেও হামাসের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। হামাসের প্রতিরোধ শক্তিকে এতটুকু খর্ব করতেও সক্ষম হয়নি। ইঙ্গ-মার্কিন ও ইসরাইলিদের প্ররোচনায় ইয়েমেনের হুতিদের উপর আরব জোটের দশকব্যাপী বোমা হামলার পর এখন হুতিরা পশ্চিমা পুঁজিবাদী সা¤্রাজ্যের বাণিজ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক লাইফলাইনে আঘাত করে তা তছনছ করে দিচ্ছে। হুতিরা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গাজায় গণহত্যা ও আগ্রাসন বন্ধের দাবি জানিয়েছে। আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুটে ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সামরিক-বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করেছে। পশ্চিমারা প্রথমত: গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধের উদ্যোগের বদলে অব্যাহত গণহত্যা এবং ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে খাদ্য, পানি, বাসস্থান, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়ে হত্যার পথকেই সমর্থন করছে। দ্বিতীয়ত: আগ্রাসন বন্ধ ওএকটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইয়েমেনে হুতি এবং ইরাক, সিরিয়ার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লক্ষবস্তুর উপর আগ্রাসন চালিয়ে যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনের মানবাধিকার হরণ ও ইসরাইলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে প্রথম ধাপে ১৯৪৮ সাল এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৯৬৭ সালের পর থেকে পশ্চিমারা তাদের সম্ভাব্য সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়েছে। এতে ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ যুদ্ধ দাবিয়ে রাখা যায়নি। ৭ অক্টোবর ইসরাইল সীমান্তে হামাসের হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে পুরো গাজা উপত্যকাকে জনশূন্য করে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ বেছে নিতে চেয়েছে জায়নবাদী ইসরাইল ও তার পশ্চিমা বশংবদ শাসকরা। ফিলিস্তিন প্রশ্নে মার্কিনীদের প্রতারণাপূর্ণ দ্বিমুখী নীতি ট্রাম্প-বাইডেনরা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। ইসরাইলের কথিত নিরাপত্তার স্বার্থের কথা বলে পশ্চিমারা গাজায় গণহত্যাকে সমর্থন করছে। চারমাস ধরে নির্বিচার বোমা মেরেও যখন হামাসের প্রতিরোধ দুর্বল করা যাচ্ছে না, তখন ২০ লক্ষাধিক ফিলিস্তিনিকে খাদ্য, পানিসহ সব রকম মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করতে জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিলে ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল অভিযানে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউ’র সদস্যদের জড়িত থাকার হাইপোথেটিক্যাল অভিযোগে এ সংস্থায় অর্থ সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ পশ্চিমা ৯টি দেশ। যে সময়ে ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে আরো বেশি সহায়তা প্রয়োজন সে সময়ে তারা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে তাদের আসল চেহারাটা দেখিয়ে দিল। ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুত, এতিম শিশু ও অসহায় মানুষগুলো মৃত্যুর বিভীষিকাকে ভয় পায় না। মায়েরা, স্ত্রীরা সন্তান বা স্বামীর শহীদি মৃত্যুর জন্য গর্ববোধ করে। তারা এখন খাদ্যের অভাবে অখাদ্য, পশুখাদ্য খেয়ে কিংবা দিনের পর দিন অভুক্ত থাকতে বাধ্য হচ্ছে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তারা প্রতিরোধ যুদ্ধকে সমর্থন করছে। এদের কাছে বিশ্বের তথাকথিত স্বাধীন-সভ্য জাতিগুলোর অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে। সহায়তার সব পথ বন্ধ করে পশ্চিমারা এদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও রুদ্ধ করে দিতে চাইছে।

tag ট্যাগ: #111