এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বর্তমানে কিছু কিছু অঞ্চলে, বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নাশকতা, অরাজকতা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার মতো কিছু কর্মকাণ্ড ঘটছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য। একই কথা ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও।
বস্তুত মানুষ যাতে নিরাপদ বোধ করে এবং জনবান্ধব পরিবেশে চলাচল করতে পারে, সেজন্য সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দেরিতে হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্ত সাধুবাদযোগ্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যে ধরনের অরাজক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছিল, তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের তরফে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। বিগত সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোতে জনবলের স্বল্পতা লক্ষ করা গেছে। বিগত সরকারের সময়ে পুলিশের ভূমিকা ও পরবর্তীকালে সমাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির অভাবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জনমনেও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছিল। ফলে দেশের সব জায়গায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আশা করা যায়, সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেনাবাহিনীর এ দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা লাভের পর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার কোনো অপপ্রয়োগ ঘটবে না, এমনটাই প্রত্যাশা করি আমরা। অবশ্য জনগণকেও সর্বাত্মক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সুফল ভোগ করবে দেশের মানুষই। একথা অনস্বীকার্য যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি জনবান্ধব সুশৃঙ্খল বাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগাযোগে বা তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নিতে সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, এটাই প্রত্যাশা।