দেশের মধ্যবিত্ত মানুষ, বিশেষত অবসরপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ সঞ্চয়পত্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দিয়ে অনেকে সংসার নির্বাহ করে। সেই অর্থে সঞ্চয়পত্র সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কাজেই এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনস্বার্থ। তাছাড়া দেশে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানতের সুদের হার অনেক কম। পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় সাধারণ মানুষ সেখানে বিনিয়োগ করাকে নিরাপদ মনে করে না। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে অনেক সীমিত আয়ের মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্রের ক্রয়সীমা ও সুদের হার কমিয়ে দিলে মধ্যবিত্তের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কাজেই আইএমএফের এ সংক্রান্ত শর্ত পূরণের আগে সরকারের উচিত জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করা। এটি ঠিক, সরকারকে আইএমএফের শরণাপন্ন হতে হয়েছে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উদ্ধার পেতে। তবে আইএমএফ আসলেই অর্থনীতির উদ্ধারকর্তা কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাছাড়া আইএমএফের এ ঋণ অর্থনীতিকে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি দেবে। বস্তুত অর্থনীতিকে টেকসই ও সংকটমুক্ত করতে হলে এর সংস্কার করতে হবে নিজেদের প্রয়োজনে, নিজেদের মতো করে। সেক্ষেত্রে জনস্বার্থকে দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজন জোরালো রাজনৈতিক অঙ্গীকার।