সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শেইনের কারখানাগুলোর শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। শেইন,২০১৮ সালের পর থেকে ফ্যাশন দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে, বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশে তাদের পোশাক সরবরাহ করে। তবে, এই সাফল্যের পেছনে শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় কাজ করা, কম মজুরি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
পানিউ এলাকার প্রায় ৫,০০০ কারখানা শেইনের জন্য পোশাক তৈরি করে। বিবিসি ১০টি কারখানা পরিদর্শন করেছে এবং ২০ জনেরও বেশি শ্রমিক ও ৪ জন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তারা মাসে মাত্র একদিন ছুটি পান এবং সপ্তাহে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা কাজ করেন। যদিও চীনের শ্রম আইন অনুযায়ী সপ্তাহে ৪৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করা নিষিদ্ধ।
শ্রমিকরা প্রতি পিস পোশাক তৈরির জন্য টাকা পান। একটি সাধারণ টি-শার্টের জন্য তারা এক বা দুই ইউয়ান (প্রায় ১৪-২৮ টাকা) পান। একজন শ্রমিক ঘণ্টায় গড়ে ১০-১২টি পোশাক তৈরি করতে পারেন। তাদের আয় মাসে ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউয়ানের মধ্যে হলেও এটি অনেক সময় জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট নয়।
শেইনের কারখানাগুলো বড় এবং আলো-বাতাস প্রবেশের উপযুক্ত। শ্রমিকদের ঠান্ডা রাখতে বড় ফ্যানও রাখা হয়। তবে গত বছর কারখানায় শিশু শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া গেলে বড় সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
শেইন এখন তাদের কারখানা তদারকি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, কারণ তারা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার লিস্টিং করার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া, শেইনের বিরুদ্ধে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তুলা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সরবরাহ চেইনকে আরও স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শেইনের সাফল্য চীনের কর্মপ্রক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতার প্রমাণ। তবে, এই সাফল্যের জন্য যে শ্রমিকরা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের অধিকার রক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে শ্রমিকদের অবদান কখনোই অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। তথ্যসূত্র : বিবিসি