গত বছরের শুরুর দিকে আন্তঃব্যাংকে ধারের প্রবণতা কম ছিল। কিন্তু ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট প্রকট হলে মার্চ থেকে আন্তঃব্যাংকে ধারের প্রবণতা বেড়ে যায়। গত বছরের জানুয়ারিতে আন্তঃব্যাংকে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। মার্চে এই খাতে লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৩২ হাজার ১০৪ কোটি টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ৫ গুণ বেড়ে যায়। ওই সময়ে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ কারণে ব্যাংকগুলো জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের চাহিদ মেটাতে আন্তঃব্যাংকের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভর হয়ে পড়ে। জুন পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা।
জুলাইয়ে আন্তঃব্যাংক লেনদেন কমে যায়। ওই মাসে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকায়। ওই মাসে লেনদেন কমেছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা। আগস্টে লেনদেন আরও কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে লেনদেন কমে ৫২ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে আন্তঃব্যাংকে লেনদেন আবার কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার ২২০ কোটি টাকা। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে লেনদেন বেড়েছে ৯৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু অক্টোবরে লেনদেন আবার কমে যায়। ওই মাসে লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে লেনদেন কমেছে ৩১ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।
তবে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আন্তঃব্যাংকে লেনদেন বেড়েছে বলে জানা গেছে। আন্তঃব্যাংকে লেনদেন ব্যাংকগুলোর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।