স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু, মকছেদ আলী বিশ্বাস ও আশরাফুল আলম আশরাফের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন তিনি। পৌরসভার অনাপত্তিপত্র, অডিটোরিয়াম ভাড়া, বিভিন্ন টেন্ডার ও উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্ব তার হাত দিয়েই হতো। ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিম্নমানের কাজ করিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা থেকেও ঘুস নিতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে শহরের বনানীপাড়ায় ৬ লাখ টাকা শতক দরে ৫ শতক জমি কিনে সেখানে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু। ২০২৩ সালে একই স্থানে আরও ৪ শতক জমি কেনেন। বর্তমানে ভবন ও জমির বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া গ্রামের মাঠে ৮ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।
মেগুরখির্দা গ্রামের মসজিদের মুয়াজ্জিন আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমিনুলের বাবার ছিল মাত্র ২ বিঘা জমি। কিন্তু পৌরসভার চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি গ্রামের মাঠে প্রায় ৮ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে এক দাগেই আছে ৩ বিঘা ১৩ কাঠা জমি।’
পৌরসভার এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আগে পৌরসভার বেতন ৭-৮ মাস পর্যন্ত বাকি থাকত। কিন্তু ৫ আগস্টের পর নতুন প্রশাসক বকেয়া পরিশোধ করেছেন। পূর্বের মেয়রদের আমলে কর্মচারীরা চরম কষ্টে দিন কাটাত, অথচ ঠান্ডু ছিলেন প্রভাবশালী।’
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু বলেন, ‘অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। চাকরি পাওয়ার পর স্বাবলম্বী হয়েছি। শহরে তিনতলা বাড়ি ও কিছু জমি কিনেছি। গ্রামের জমি আগেই কিনেছি। বর্তমানে পৌরসভার বেতন নিয়মিত।’ তবে কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন, তার সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক মো. দেদারুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।