১৪তম ওভারে আলিক আথেনিজের ক্যাচ মিস ম্যাচের সবচেয়ে সহজটি। এবার জীবন পান তানজিদ হাসান। মিড উইকেট সীমানায় যখন তিনি ক্যাচ তুলে দেন, তখন তিনি ব্যাট করছেন ৪৪ রানে। এরপর তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম ফিফটি। তা অবশ্য যথেষ্ট হয়নি। শেফার্ডের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন কিংয়ের হাতে। ৪৮ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। আগের সিরিজের অধিনায়ক জাকের আলী অনিক, যিনি আগের ম্যাচে বাদ পড়েছিলেন পারফরম্যান্সের কারণে, সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ১৮ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন শেফার্ডের তৃতীয় শিকার হয়ে। এরপর শামিম হোসেন, রিশাদ হোসেনও ব্যর্থ। ফলে আরও একটি হার মেনে নিতে হয় টাইগারদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২২ রানের খরচায় ৩টি উইকেট নেন আকিল হোসেন। ২৯ রানের বিনিময়ে তিনটি শিকার শেফার্ডেরও। এছাড়া ২টি উইকেট পান জেসন হোল্ডার।
এর আগে সাগরিকায় এদিন ইনিংসের শুরুতেই আগের ম্যাচে ৩৩ রান করা ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে ভালো সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। তবে এরপর আশার প্রদীপ জ্বেলে অধিনায়ক হোপ ও আথানেজ মিলে দলকে এগিয়ে নেন দৃঢ়ভাবে। দুজন মিলে মাত্র ৫৯ বলে গড়ে তোলেন ১০৬ রানের ঝড়ো এক জুটি। পাওয়ার প্লেতেই আসে ৫০ রান, আর ১০.৫ ওভারে স্পর্শ করে দলীয় শতক। হতাশা কাটিয়ে দ্বাদশ ওভারে নাসুম আহমেদ এনে দেন কাক্সিক্ষত ব্রেক থ্রু। তাকে লং অনে হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেটে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ধরা পড়েন আথানেজ। পরের বলেই শেরফেইন রাদারফোর্ডকে বোল্ড করে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার।
দুই বলে দুই উইকেট হারিয়ে ছন্দপতন ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে। এরপর পরের ওভারে বল হাতে নিয়ে সেট ব্যাটার হোপকেও ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। তাতেই পুরো ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরে যায় বাংলাদেশের দিকে। ১২তম ওভারে নাসুমের বলে টানা দুই উইকেট হারানোর পর খেই হারিয়ে ফেলে দলটি। ১৫তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে জোড়া আঘাত হানেন রিশাদ হোসেন, যিনি নিজের প্রথম ওভারে দুটি ছক্কা হজম করে দিয়েছিলেন ১৫ রান। এবার তিনি উইকেটে টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা রভম্যান পাওয়েলকে ফেরানোর পর তুলে নেন জেসন হোল্ডারকেও ১২ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সতর্কভাবে এগিয়ে যান রোস্টন চেজ ও রোমারিও শেফার্ড। ২৭ বলে ২৬ রানের ছোট একটি জুটি গড়েন তারা। তবে শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে আক্রমণ করতে গিয়ে আউট হন শেফার্ড। পরের বলেই খেরে পিয়েরে বোল্ড হন, আর শেষ বলে রানআউট হয়ে ফেরেন আকিল হোসেন। ফলে দেড়শর আগেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৪৪ রান যোগ করতে পেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হারায় ৮ উইকেট। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন অধিনায়ক হোপ, ৩৬ বলের ইনিংসে ৩টি করে চার ও ছক্কা। আথানেজের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ৫২ রান, যাতে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। অপরাজিত থাকেন রোস্টন চেজ ১৭ রানে। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মুস্তাফিজ ২১ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। নাসুম আহমেদ ও রিশাদ হোসেন পান ২টি করে উইকেট।