তাঁর লিখিত বক্তব্যে তপু রায়হান বলেন, "আমাদের দরকার দুর্নীতিমুক্ত, দলীয়করণ মুক্ত, রাজনৈতিক এজেন্ডা মুক্ত, সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী, দূরদর্শী, ন্যায়সংগত, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার, জনসাধারণের জন্য উপযোগী, সৃজনশীল একটি সরকার ও তার প্রশাসন।"
তিনি জানান, তিনি এমন এক সময়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যখন রাষ্ট্রের গতিপথ ও সমাজের পথ নির্ধারণে চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এটি সারা দেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইশতেহার ও সহযোগিতার রাজনীতিতে জোর
তপু রায়হান জানান, তিনি ঢাকা-১৭ এলাকার জন্য একটি বিশেষ ইশতেহার তৈরি করছেন। তিনি নিজে তাঁর নির্বাচনী দল নিয়ে করাইল বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। নভেম্বরের মধ্যেই গুলশান, বনানী, মহাখালী, শাহাজাদপুর, ক্যান্টনমেন্ট, ভাষানটেকসহ ঢাকা-১৭ আসনের এই এলাকা ভিত্তিক ইশতেহার প্রকাশ করবেন, যা তাঁর মূল নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত হবে।
তিনি দেশে সহযোগিতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হোক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তপু রায়হান বলেন, তিনি তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিযোগিতা করছেন এমন সব প্রার্থীর কাছে যাবেন। তিনি অনুরোধ করেন, যদি কোনো প্রার্থী তাঁর ইশতেহারের আংশিক কোনো অংশের সঙ্গেও একমত হন, তাহলে নির্বাচিত হলে তিনি যেন তা নিয়ে কাজ করেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য হলে সাধুবাদ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন। তপু রায়হান প্রতিশ্রুতি দেন, যদি তিনি নির্বাচনে পরাজিতও হন, তবে পরবর্তী বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন ও সংস্কারে তিনি একযোগে কাজ করবেন এবং সহযোগিতা করবেন।
কৌশল ও মূল লক্ষ্য
নিজের নির্বাচনী কৌশল বর্ণনায় তপু রায়হান বলেন, এই মাসেই ইশতেহারগুলো প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করবেন—এটি হবে পলিসি তৈরির কাজ। এই কাজে সার্বিক পরামর্শের জন্য তিনি একটি উপদেষ্টামণ্ডলী তৈরি করছেন।
তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনে জয় আমার একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সংযোগ, তাদের সমস্যা বোঝা এবং সবার অংশগ্রহণে এলাকার উন্নয়নে এমন একটি মডেল নির্মাণ করা যা সারা দেশের সমাজ কাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়নে অনুসরণ হতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমি নির্বাচনে এসেছি।"
বক্তব্য শেষ করে তিনি বলেন, "আমাদের রাজনীতি ক্রমশ সংঘাতময় হয়ে উঠছে। কেউ কারো কথা শুনতেছেন না, ঐক্যমত্য দূরের বিষয়। অথচ সমাজে থাকা মানে একে অপরের সহযোগিতায় থাকা। আমি বিশ্বাস করি, ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে সকল শ্রেণি-পেশার, ধর্ম, মতাদর্শ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে কল্যাণমুখী রাজনীতির প্রয়োজন এখন।"
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ জহির রায়হানের স্ত্রী, চলচ্চিত্রাভিনেত্রী, প্রযোজক ও পরিচালক এবং তপু রায়হানের মা কহিনুর আক্তার সুচন্দা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তপু রায়হানের নির্বাচনী প্রচারণার যোগাযোগ পরিচালক, ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর এবং উপদেষ্টারা।