গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প যখন তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, তখন বিনিয়োগকারীরা ডলার বিক্রি শুরু করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়।
সোমবারও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলার ০.৩৬ শতাংশ কমে ০.৭৯৯৩-এ নেমে আসে এবং জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ০.২৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৫৭.৭৪ ইয়েনে। ডলার সূচকও সামান্য কমে ৯৯.১৮-এ নেমে আসে।
খুন গোহ বলেন, শুল্ক আরোপের হুমকি ইউরোপের জন্য ক্ষতিকর—এমন যুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে ডলারের ওপরই। কারণ বাজারে মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম বেড়ে যাচ্ছে।
ঝুঁকির মনোভাব পরিমাপের একটি সূচক হিসেবে ব্যবহৃত ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোও বড় ধরনের বিক্রির চাপের মুখে পড়েছে।
বিটকয়েন ৩ শতাংশের বেশি কমে ৯২ হাজার ৪৭৭ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে আসে, আর ইথার প্রায় চার শতাংশ পড়ে গিয়ে দাঁড়ায় তিন হাজার ২০৩ দশমিক ১৩ ডলারে।
এশিয়ায় সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি চার দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা বেশি এবং সরকারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তথ্যটি প্রকাশের পর ডলারের বিপরীতে অনশোর (অভ্যন্তরীণ) ইউয়ানের মানে তেমন পরিবর্তন হয়নি এবং তা ছয় দশকি ৯৬৪৭ ডলারে স্থির ছিল; অন্যদিকে অফশোর (আন্তর্জাতিক) ইউয়ান কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ছয় দশমিক ৯৬০৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
চীনের ইউয়ানের একটি তরল বিকল্প সূচক হিসেবে প্রায়ই ব্যবহৃত অস্ট্রেলিয়ান ডলারও ওই তথ্যের প্রতিক্রিয়ায় তেমন কোনো পরিবর্তন দেখায়নি। সামগ্রিক ঝুঁকি-এড়ানোর প্রবণতার কারণে মুদ্রাটি চাপের মধ্যেই ছিল এবং সর্বশেষ ০.০৯ শতাংশ কমে ০.৬৬৮৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.২৫ শতাংশ বেড়ে ০.৫৭৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে