calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / রাজনীতি / রাজনীতির নতুন বার্তা ইতিবাচক
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
রাজনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

রাজনীতির নতুন বার্তা ইতিবাচক

জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌজন্য ও নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত গড়লেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার আগে রোববার রাতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ • বিকাল ০৩:২৯
history আপডেট: ৮ মাস আগে
timer ১৩ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১১১ বার পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর নির্বাচনোত্তর উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসাবে দেখছেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিএনপি যে ইতিবাচক রাজনীতির সূচনা করতে চায় এর অংশ হিসাবেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধানদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তারেক রহমান। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনটি দেখা যায়নি।

বৈঠক সূত্র জানায়, জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন-পরবর্তী সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এই সাক্ষাৎকে রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতি বলে অভিহিত করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। 

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিএনপির চেয়ারম্যান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতের আমিরের বাসায় প্রবেশ করেন। ৭টা ৫৮ মিনিটে জামায়াত আমিরের বাসা ত্যাগ করেন। প্রায় ৫০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসায় যান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বাসার সামনে এগিয়ে এসে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান নাহিদ। আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকেও তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনজনকেই বুকে টেনে নেন তারেক রহমান। 

পরে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্ভাব্য বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আমরা এটিকে স্বাগত জানিয়েছি। এটি রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে একসঙ্গে ছিলাম। ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর পৃথকভাবে নির্বাচন করেছি। সরকার ও বিরোধী দল মিলে জনগণের কল্যাণে আমরা কাজ করব। আমরা একমত হয়েছি যে জনগণের মৌলিক বিষয়াদিতে আলোচনাসাপেক্ষে সমাধানের চেষ্টা করব। 

তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ উদ্ভূত জরুরি কিছু বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসাবে নিয়েছেন। যা রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন। আমরা বলেছি, জনগণের প্রয়োজনে আমরা সংসদে গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, জাতীয় সরকারে আমরা যোগ দেব না। বিরোধী দলে থেকে সংসদের ভেতরে-বাইরে ভূমিকা পালন করব। 

সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়া, পঞ্চগড়সহ সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি জুলাই আগস্টের গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায় কার্যকরসহ বিগত সময়ের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, নবগঠিত সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টি দায়িত্বশীল ও কার্যকর বিরোধী দল হিসাবে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। তবে যে কোনো সংকট সমাধানে সংলাপের পথ উন্মুক্ত থাকবে।

তারেক রহমান চলে যাওয়ার পর নাহিদের বাসার নিচে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান ও জনাব নাহিদ ইসলাম আজকে সৌজন্য সাক্ষাতে একত্রে বসেছেন। নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে এনসিপির প্রশ্ন থাকলেও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের জায়গা থেকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন, এই রাজনৈতিক সৌজন্যতা এবং তার জয়ী হয়ে আসাকে আমরা অভিনন্দন জানাই। নিজেদের মধ্যে মতভিন্নতা সত্ত্বেও আমরা কীভাবে একত্রে দেশের জন্য কাজ করতে পারি, সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। সংস্কারের প্রশ্নকে কীভাবে সুরাহা করা যায় এবং বিচারের প্রশ্ন নিয়েও আমরা কথা বলেছি।’

সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা পরিবর্তনের আভাস দেয় উল্লেখ করে আখতার বলেন, ‘আমরা মনেপ্রাণে চাই, আমাদের রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকবে, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য আলাদা হবে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে সব দল একসঙ্গে থাকব। সে ধরনের পরিবেশ অটুট থাকবে, এই প্রত্যাশা আমরা রাখছি।’ সদস্যসচিব বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী যেসব সহিংসতা বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে, সেসব নিয়েও আমরা তারেক রহমানকে জানিয়েছি। তাদের দলের পক্ষ থেকে সে বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া ও অঙ্গহানি হওয়া বীর শহীদ ও গাজীদের পরিবারের যথোপযুক্ত পুনর্বাসন নিয়েও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আখতার।

পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আখতার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে থাকা যে কোনো রাজনৈতিক দল, যারা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে চায়-এমন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে, পলিসির (নীতির) ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যাতে একত্রে বসতে পারি, সংলাপের মধ্য দিয়ে যাতে আমরা সমাধানে পৌঁছাতে পারি, সে ব্যাপারে নাহিদ ইসলাম আহ্বান জানিয়েছেন। সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিএনপির নেতারাও জোরারোপ করেছেন। আমরা আশাবাদী, আজকের এই সাক্ষাৎ বা সংলাপের মধ্য দিয়েই আমরা দেশের সংকটকে সমাধানের দিকে নিতে পারব।’

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগদানের কোনো আহ্বান এনসিপি পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এটা নির্বাচন-পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক যেসব বিষয়বস্তু থাকে, সে রকম কোনো বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়নি। নির্বাচনে জয়ী দল ও বিরোধী দল হিসাবে যারা ফাংশন করবেন, তাদের মধ্যকার একটা সম্পর্কের সূচনা হিসাবে আজকের এই সাক্ষাৎ। অন্যান্য রাজনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে এখানে আলোচনা হয়নি। সে বিষয়গুলো সামনের দিনে আমাদের মধ্যে আরও আলোচনা হবে। তখন এসব বিষয় পরিষ্কারভাবে জানানো যাবে।’

ইতঃপূর্বে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশানের কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খবর নিতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এনসিপিসহ অন্য দলের নেতারাও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমানকে সমবেদনা জানান। সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে বিএনপি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে জয় পায় বিএনপির এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই জামায়াতের আমিরের বাসায় গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষ্যে জামায়াত আমিরের বাসার সামনে উভয় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন।