রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং আলমগীর হোসেনকে (৩৪) আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।
গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে আহত হন ওসমান হাদি। তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান।
পুলিশের তদন্তে ফয়সাল করিম মাসুদকে (ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, আদাবর থানা শাখার সাবেক সভাপতি) এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনার পরপরই তিনি তার সহযোগী আলমগীরসহ মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। জানুয়ারিতে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে ফয়সাল ছিলেন শীর্ষ আসামি।
এর আগে ফয়সাল করিম মাসুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দুবাইয়ে অবস্থানের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তদন্ত সংস্থাগুলো তাকে ভারতে লুকিয়ে থাকার তথ্য পেয়েছিল।
গ্রেপ্তারের খবরে হাদির পরিবার, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।