calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / অর্থনীতি / কর ও ভ্যাটের চাপ প্রত্যাশার বাজেটে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অর্থনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

কর ও ভ্যাটের চাপ প্রত্যাশার বাজেটে

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে চিড়েচ্যাপ্টা সাধারণ মানুষ নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে একটু স্বস্তির প্রহর গুনছেন। সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে মানুষকে স্বস্তি...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬ • দুপুর ০১:৪৪
history আপডেট: ৪ মাস আগে
timer ৮ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১২০ বার পঠিত

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি  বলেন, আগামী বাজেটে অর্থনীতির প্রধান সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার মতো সুর্নিদিষ্ট প্রদক্ষেপ থাকতে হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। স্বল্প আয়ের মানুষরা যেন স্বস্তিতে থাকতে পারে সেজন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হবে। নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

এই অর্থনীতিবিদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে আনার মতো প্রদক্ষেপ বাজেটে না থাকলে সেটা জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। জিডিপির অনুপাতে বাজেটের আকার আরও বড় করার সুযোগ আছে, তবে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি না পেলে সেটা টেকসই হবে না। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো কর্মসূচি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু সেটি প্রকৃত উপকারভোগীর হাতে পৌঁছাতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পারেন। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। বড় আকারের এই বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপরই জোর দিচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় অর্ধেক বা ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট থেকে আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভ্যাট বৃদ্ধির মানে হলো, ধনী-গরিব সবার ওপর এটি ধার্য হবে। করজাল সম্প্রসারণের অংশ হিসাবে খুচরা পর্যায়ে কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পণ্য সরবরাহের পর্যায়ে প্রতি হাজারে ২ টাকা হারে উৎসে কর কাটা হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ হলেও নিয়মিত রিটার্ন জমা দেয় সাড়ে ৫ লাখের মতো। এই সংখ্যা এক বছরের মধ্যে ২০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আহরণ প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ৯১ হাজার কোটি টাকা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট, যানবাহনের লাইসেন্স ও বিভিন্ন সেবামূলক খাত থেকে এই অর্থ আসবে, যা সেবার ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হচ্ছে। ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। সুদ পরিশোধেই ব্যয় হতে পারে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা, যা বাজেটের বড় একটি অংশ দখল করবে। বিপুল পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে, যার চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এটি সাড়ে ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ে থাকায় নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও ডলারের উচ্চমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় সেই সুবিধা পুরোপুরি ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার, ওএমএস ও ফ্যামিলি কার্ডে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে খাদ্যে ভর্তুকি কমিয়ে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ ৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর অংশ হিসাবে ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যেখানে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। মোট ১ কোটি ২১ লাখ মানুষকে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ লাখ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। তবে শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ ৩০ হাজার।