calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / অপরাধ / আসামিদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অপরাধ বিশেষ প্রতিবেদন

আসামিদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৩ জনের মৃত্যু স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে

পাবনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার জের ধরে আসামিদের বাড়ি-ঘরে উত্তেজিত জনতার দেওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঢাকার...

person
জেলা প্রতিনিধি verified
News Reporter
schedule প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ • সন্ধ্যা ০৬:১৩
history আপডেট: ৪ মাস আগে
timer ৭ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৮৯ বার পঠিত

এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে শফি ওরফে সাপু। দগ্ধ হয়ে তিনজনের এই মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে চরম উত্তেজনা ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনার ভাড়ারার বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পাবনা শহরের শহীদ মাওলানা কসিম উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী রিয়ার বস্তাবন্দি ও হাত-বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পরের দিন ৪ জুন তার জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন সম্পন্ন হতেই চরম উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং মূল আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই আগুনের তীব্রতায় আসামিদের বাড়ির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়, ফলে আগুন নেভাতে আসা ও আশপাশে থাকা অন্তত ১০ জন স্থানীয় মানুষ গুরুতর দগ্ধ হন। উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাকি ৭ জনের মধ্যে আরও দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার একজন এবং আজ মঙ্গলবার দুইজনের মৃত্যু হয়েছে; এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে মূল হত্যাকাণ্ড ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, স্কুলছাত্রী রিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কথিত প্রেমিক মো. নাঈমসহ (২০) তার দুই সহযোগীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন হলো—পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. ইয়াসিন শেখ (২১) ও মো. তুহিন প্রামানিক (১৮)। একইসঙ্গে মরদেহ গুমের কাজে ব্যবহৃত সেই আলোচিত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন রিয়া প্রেমিক নাঈমের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে দুজনের ঘনিষ্ঠতার একপর্যায়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম পুলিশকে জানায়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো চাকু বের করে রিয়াকে ভয়ভীতি দেখায় এবং রিয়া শান্ত না হলে তাকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে নাঈম তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে এবং বাজার থেকে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা সংগ্রহ করে রিয়ার হাত বেঁধে লাশটি বস্তাবন্দি করে প্রাইভেটকারে করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান বলেন, ৪ জুন রিয়ার মরদেহ দাফনের পরে উত্তেজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে এই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে; পুরো বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।