প্যারাগুয়ের জন্য জয়টি আরও ঐতিহাসিক। এর আগে পাঁচবার নকআউটে খেললেও তারা কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেনি। কেবল ২০১০ বিশ্বকাপে জাপানকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র টাইব্রেকারের জয়। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় দলটি। অন্যদিকে ২০১৪ সালের শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলতে নেমেছিল জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল সতর্ক ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৪২ মিনিটে জুলিও এনসিসোর নিচু হেড ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ায় (১-০)। এক গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় জার্মানি। বিরতির পর দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ফ্লোরিয়ান উইর্টজের নিখুঁত ক্রসে কাই হাভার্টজ মাথার আলতো ছোঁয়ায় সমতা ফেরান (১-১)। এরপর দু’দলই একাধিক সুযোগ পেয়ে গোল পায়নি। জার্মানির হয়ে লেরয় সানে, হাভার্টজ ও জোনাথন টাহ সুযোগ নষ্ট করেন। আর প্যারাগুয়ের গুস্তাভো কাবায়েরোর হেড দারুণভাবে রুখে দেন ন্যয়ার। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের কয়েকটি অসাধারণ সেভ ম্যাচে দলকে টিকিয়ে রাখে। অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে জোনাথন টাহর হেডে জার্মানি এগিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, কর্নার থেকে বল আসার আগে ভালডেমার আন্তন গোলরক্ষক গিলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ফলে ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম শটেই হোঁচট খায় জার্মানি। কাই হাভার্টজের জোরালো শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গিল। প্যারাগুয়ের হয়ে মাউরিসিও, গুস্তাভো গোমেজ ও মাতিয়াস গালারজা গোল করেন। জার্মানির হয়ে জোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা সফল হলেও চতুর্থ শটে নিকো ওল্টেমাডের নিচু শটও রুখে দেন গিল। অবশ্য প্যারাগুয়ের সামনে ম্যাচ শেষ করার সুযোগ এসেও তা হাতছাড়া হয়। চতুর্থ শটে আন্তোনিও সানাবরিয়ার প্রচেষ্টা পোস্টের বাইরে চলে যায়। পরে নাদিয়েম আমিরি গোল করে জার্মানিকে লড়াইয়ে রাখেন। এরপর ম্যানুয়েল ন্যয়ার ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকিয়ে জার্মানিকে আরেকটি সুযোগ এনে দেন। কিন্তু জোনাথন টাহ নিজের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারলে সেই সুযোগও নষ্ট হয়। পরের শটে জোসে ক্যানেলো জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
ঐতিহাসিক এই জয়ের পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা গতকাল (৩০ জুন) দেশে অনুমোদিত জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন। তার ভাষায়, ‘জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩০ জুন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হলো।’
ম্যাচ সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল বলেন,‘আমরা ম্যাচটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। প্রথম গোল করার পর সবাই অসাধারণভাবে রক্ষণ সামলেছে। টাইব্রেকারের আগে আমরা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছি। দু’টি পেনাল্টি শট ঠেকাতে পেরে আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানো আমাদের জন্য বিশেষ এক অর্জন। এই জয় আমি সব প্যারাগুইয়ানদের উৎসর্গ করছি।’
শেষ ষোলোতে আগামী ৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে। সেই ম্যাচে জিততে পারলে ৯ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে আবারও বোস্টনে ফিরবে প্যারাগুয়ে।
প্যারাগুয়ের ইতিহাস জার্মানিকে বিদায় করে
২০১৪ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল জার্মানি। এবার অবশ্য দাপটের সঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এক যুগ পর নকআউটে উঠেছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাবর্তনের...