বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাপক হারে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ দেশীয় স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অনাস্থা। রোগ নির্ণয়ে ত্রুটি, সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা না পাওয়া, চিকিৎসকের আন্তরিকতা ও সদ্ব্যবহারের ঘাটতি-সর্বোপরি দেশীয় চিকিৎসক ও সেবা ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থার সংকট থাকায় মানুষ বিদেশনির্ভর হচ্ছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া আগে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিমালা ছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল-কেউ দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে চাইলে আদৌ তার কোনো প্রয়োজন আছে কি না, কত ডলার খরচ হবে প্রভৃতি হিসাবনিকাশ করা হতো। উপরন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি খরচের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিত। তবে এ নীতিমালার পরিবর্তন হওয়ায় বর্তমানে রোগী যে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে ব্যাংক থেকে ডলার নিতে পারছেন। বস্তুত নিয়মের শিথিলতায় সামান্য রোগব্যাধিতেও আজকাল মানুষের মধ্যে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে এবং এ কারণে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়।
ঢালাওভাবে রোগীদের বিদেশ যাওয়া রোধ করতে হলে সর্বাগ্রে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, তা বলাই বাহুল্য। এছাড়া চিকিৎসকদের আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। রোগ শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরঞ্জাম ও হাসপাতাল অবকাঠামো বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনই নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। এ কথা সত্য-দেশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে। তবে রোগীদের বিদেশনির্ভরতার পেছনে এটিই একমাত্র কারণ নয়। আমরা মনে করি, বিদেশনির্ভরতা বন্ধ করতে হলে চিকিৎসকদের অবশ্যই রোগীবান্ধব হতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে রোগীদেরও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। এছাড়া হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করার পাশাপাশি সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।