চিকিৎসকদের ভাষ্য, কোনো দম্পতি এক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করেও সন্তান ধারণ করতে না পারলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। এ সমস্যা পুরুষ, নারী বা উভয়ের কারণেই হতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা, শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া, গতিশীলতা বা আকৃতিগত ত্রুটি এবং সহবাসজনিত সমস্যার কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।
ইউরোলজি ও অ্যান্ড্রোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব কোনো একক রোগ নয়। তাই নিজে থেকে ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার না করে প্রথমেই বীর্য পরীক্ষা, হরমোন পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করা উচিত।
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, অ্যালকোহল ও মাদকদ্রব্য শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গুণগত মান কমিয়ে দেয়। তাই এসব অভ্যাস পরিহার করা জরুরি। পাশাপাশি কীটনাশকমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, চর্বিহীন মাংস, দুধ, ডাল, বাদাম, সবুজ শাকসবজি ও মৌসুমি ফল রাখা উচিত। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা বা মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ভারোত্তোলন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুম প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে।
অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন
দীর্ঘ সময় গরম পানিতে গোসল, কোলে ল্যাপটপ রেখে কাজ করা বা আঁটসাঁট পোশাক পরলে অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা শুক্রাণু উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আরামদায়ক পোশাক পরা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন
ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, ভ্যারিকোসিল বা যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো রোগ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী আইইউআই, আইভিএফ বা আইসিএসআইয়ের মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তিরও সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।