জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শোবার ঘরেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র ছিল, সেখানে এখন শহীদদের রক্তাক্ত পোশাক, ঘড়ি, জুতা, কোট, টাইসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই কক্ষে প্রবাসফেরত শহীদ রাজিবের স্মৃতিচিহ্নও রাখা হয়েছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রতীকী কবর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানোর দৃশ্য, শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের মুহূর্ত এবং রাজপথে শহীদ ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে দুই বোনের শোকাহত অবস্থার দৃশ্য বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আন্দোলনের সাহস, ত্যাগ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দক্ষিণ দিকের বারান্দায় থাকা শিশুদের দোলনাটি আগের অবস্থাতেই রাখা হয়েছে। তবে সেখানে এখন জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশুদের প্রতিকৃতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া শেখ হাসিনার ব্যবহৃত বাথটাবে শহীদদের ছবি এবং তারা কোথায় ও কীভাবে নিহত হয়েছেন, সে-সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য আগ্রহীদের আগে অনলাইনে নিবন্ধন করে নির্ধারিত সময়ের (স্লট) টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় বেছে নিতে হবে।
প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।