তবে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা রওশন এরশাদের নেই। জি এম কাদের জাপার মনোনয়ন বোর্ডের সুপারিশে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন। এটাই চূড়ান্ত।
তবে রওশনের অনুসারীরা বলছেন, জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আপিল বিভাগের রায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন এবং প্রতীক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। রওশন তাঁর মনোনীত প্রার্থী জাপার সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদকে দলের লাঙ্গল প্রতীক দিতে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন। গতকাল মনোনয়নপত্রের সঙ্গে তা জমা দিয়েছেন কাজী মামুন। একই দিনে বনানী কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে মেজর (অব.) আনিছুর রহমানের হাতে দলীয় মনোনয়নের চিঠি তুলে দেন জি এম কাদের।
বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। আগামী রোববার প্রার্থিতা বাছাই। সে দিনই বলা যাবে, জি এম কাদের নাকি রওশন– কার দেওয়া প্রত্যয়নপত্রকে স্বীকৃতি দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। রওশনের প্রার্থী কাজী মামুন জানিয়েছেন, বাছাইয়ে বাদ পড়লে আদালতে যাবেন।
সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত দলের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২-এর ১২(৩ক)খ ধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। এটা নিশ্চিত করবে প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এই প্রত্যয়নের ভিত্তিতে প্রার্থীকে নিবন্ধিত দলের জন্য সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জি এম কাদের গত অক্টোবর থেকে চার মাস আদালতের নিষেধাজ্ঞায় দলীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে না পারায় সে সময়ে দলের মহাসচিবের প্রত্যয়নে জাপার প্রার্থীদের লাঙ্গল প্রতীক দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞ এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাউসার বলেছেন, দলের সভাপতির প্রত্যয়ন অগ্রাধিকার পাবে। সভাপতি যাকে প্রার্থী করবেন, তিনিই দলীয় প্রার্থী হবেন। বিরোধ তৈরি হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন। প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কার্যবিবরণী চাইতে পারবেন।
তবে রওশনপন্থিরা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাঁর রাজনৈতিক সচিব সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার উপধারা ১ অনুযায়ী, প্রধান পৃষ্ঠপোষকের অবস্থান জাপা চেয়ারম্যানের ওপরে। প্রধান পৃষ্ঠপোষক সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন। তাই রওশন এরশাদের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
কাজী মামুন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সঙ্গে ছিলেন গোলাম মসিহ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা। রাঙ্গা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে যে ‘গঠনতন্ত্র’ দেন, তাতেও লেখা ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।’
তবে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সমকালকে বলেছেন, যে গঠনতন্ত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, তা ভুয়া। কাউন্সিলের জন্য করা খসড়া। নির্বাচন কমিশনে যে গঠনতন্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে ২০ ধারার উপধারা ১-এ ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক সর্বময় ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন’– এমন কোনো কথা নেই। বরং বলা হয়েছে, ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হবেন। তিনি দলের জনসভায় দলীয় চেয়ারম্যানের ওপরে স্থান পাবেন। জাতীয় ও দলীয় বিষয়ে প্রয়োজন মনে করলে, চেয়ারম্যান তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করবেন।’