প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রায় ৬৪৬টি অনলাইন প্ল্যাটফরমে ৫১ হাজার ২৯৮টি পশুর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি পশু বিক্রি হয়েছে।
ডিজিটাল হাট
করোনাকালে ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া অনলাইন কুরবানির হাট (ডিজিটাল হাট : (https://digitalhaat.gov.bd/) এবারও অনলাইনে পশু বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইক্যাব)-এর ব্যবস্থাপনায় এবং সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের একশপের কারিগরি সহায়তায় ইতোমধ্যে অনলাইনে কুরবানির পশু বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্যও সুযোগ : এবার প্রবাসী ক্রেতাদের কুরবানির পশু কেনার সুযোগ থাকছে এ হাটে। তবে এটা শুধু মূল প্ল্যাটফরম digitalhaat.gov.bd থেকে কেনার জন্য প্রযোজ্য হবে। এছাড়া ক্রেতা যে জেলার জন্য ক্রয় করবেন সে জেলায় পশুর অবস্থান হতে হবে।
ডিজিটাল হাটের মাঠ পর্যায়ের সমন্বয়ক ই-ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম শোভন বলেন, ডিজিটাল হাটে পেমেন্টের প্রক্রিয়া হবে। পশু পছন্দ ও দাম নির্ধারণের পরে কর্তৃপক্ষ ক্রেতা ও বিক্রেতাকে ভেরিফাই করে একটি অনলাইন পেমেন্ট লিংক ক্রেতার জন্য পাঠাবেন। সেই লিংকে ক্রেতা পেমেন্ট প্রদান করবেন। বিক্রেতা তার ঠিকানা অনুযায়ী পশু ডেলিভারি করবেন। পুরো বিষয়টি ডিজিটাল হাট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তদারক করবেন।
থাকছে স্লটারিং সেবা : ডিজিটাল হাটে এবারও স্লটারিং সেবার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এটা সম্ভব হবে স্লটারিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান খালি থাকা সাপেক্ষে এবং আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে।
বিক্রয় ডটকম
৯ বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিক্রয় ডট কম অনলাইনে কুরবানি হাটের আয়োজন করে আসছে। অনলাইন কুরবানি হাট প্রসঙ্গে বিক্রয় ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঈশিতা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে অনলাইনে কুরবানির পশু কেনাবেচার কথা এলেই ‘বিক্রয়’-এর নাম প্রথমে মনে আসে সবার। বরাবরের মতোই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমরা এবারও ব্যাপক সমর্থন পেয়ে আসছি। গ্রাহকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারও বিক্রেতা আমাদের প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে উপকৃত হয়ে থাকেন। আর ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে ‘বিক্রয় বিরাট হাট কন্টেস্ট’। চলতি বছর প্রতিযোগিতাটি আমাদের সব সদস্যের জন্য উন্মুক্ত। তাই আমরা গ্রাহক ও সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আশা করছি।’
গত কুরবানির ঈদে বিক্রয় ডটকমের সাইটে ৯ হাজার কুরবানির পশু তালিকাভুক্ত হয়। এরই মধ্যে বিক্রি হয় প্রায় ৩ হাজার পশু। এবার ১০ হাজারের বেশি কুরবানির পশুর বিজ্ঞাপন নিজেদের সাইটে প্রকাশ করবেন বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।
প্রোটিন মার্কেট
এবার প্রথমবারের মতো প্রোটিন মার্কেট চালু করল অনলাইনে কুরবানির পশুর হাট। জানতে চাইলে প্রোটিন মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা এবার প্রথমবার অনলাইন হাট চালু করলাম। প্রথমবারেই আমরা ৯৬টি গরু তুলেছি। ভালোই সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় ৬০ ভাগ পশু বিক্রি হয়ে গেছে। পাইপলাইনে আরও ৩০টি গরু আছে। বিক্রির ওপর নির্ভর করছে গরুর সংখ্যা বাড়বে কি না। যদি সব পশু বিক্রি হয়ে যায়, তাহলে ক্রেতার সুবিধার্থে আরও পশু নিয়ে আসব। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে স্লটারিং সার্ভিসের ব্যবস্থা আছে। আছে ভাগে কুরবানি দেওয়ারও ব্যবস্থা।
বেঙ্গল মিট
এবারের কুরবানি উপলক্ষ্যে বেঙ্গল মিট-এর (https://qurbani.bengalmeat.com) অনলাইন হাটে মিলছে নিরাপদ খাদ্যে বেড়ে ওঠা গরু ও অন্যান্য গবাদি পশু। নিজস্ব খামারের গরু ও খাসি বিক্রি কুরবানি প্যাকেজে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিটি পশুকে সম্পূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভেজালমুক্ত খাবার খাওয়ানো হয়েছে এবং সঠিক সময়ে দেওয়া হয়েছে টিকা। ফলে ক্রেতারা থাকছেন সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত। আস্ত পশু বা ভাগ, দুভাবেই কুরবানি দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে অনলাইনে পশু বাছাই করে টাকা পেমেন্ট করে দিলেই চলবে, সঠিকভাবে পশু কুরবানি করে তার মাংস ফ্রোজেন অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া হবে বাসায়। তবে যারা নিজেই পশু কুরবানি করতে আগ্রহী, তারা জীবন্ত পশুও ডেলিভারি নিতে পারবেন।
প্রাণিসেবা
প্রাণিসেবার নিজস্ব খামার এবং তাদের সমবায় অংশীদারদের গরু কেনা যাবে (https://pranishebashop.com.bd/category/qurbanirhaa) সাইটে। অনলাইনে সেসব পশু দেখে পেমেন্ট করার পর সেগুলো ঈদের আগেভাগে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বেশির ভাগ গরুই ঢাকা ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অবস্থানরত প্রাণিসেবার সমবায় পার্টনারদের থেকে সংগ্রহ করা। পশু ডেলিভারি না নিয়ে কেউ চাইলে তাদের মাধ্যমেও কুরবানি দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যায়ক্রমে তারা বাসায় মাংস পৌঁছে দেবে। তবে প্রাণিসেবা গরু ছাড়া আর কোনো পশু বিক্রি করছে না।