জগদীশপুর গ্রামের আবুল হাশেম মণ্ডল বলেন, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) শুকুরেরহাট শাখায় রয়েছে একটি দালাল সিন্ডিকেট চক্র। তারা সাধারণ মানুষের ঋণের টাকা আত্মসাৎ করছেন, কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আবদুল খালেক মিয়া বলেন, মিলন মণ্ডলের ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেছে দালাল চক্রটি। ঋণের পুরো টাকা তুলে মিলনকে দিয়েছে মাত্র ১৫ হাজার। দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাকিটা আত্মসাৎ করেছে।
অভিযুক্ত দালাল চক্রের সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, 'মিলন মণ্ডলের সাথে চুক্তি হয়েছিল ঋণের অর্ধেক টাকা দিতে হবে। আমরা তাকে তার চাহিদামতো টাকা দিয়েছি। সে এখন পুরো টাকাটা চাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'টাকাগুলোর মধ্যে আহম্মদ মেম্বার নিয়েছেন ১২ হাজার, খরচ বাবদ আমি নিয়েছি ৩ হাজার, বাকি টাকা ব্যাংকের লোকদের দিতে হয়েছে। আমার করার কিছু নেই।'
অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদ মেম্বার বলেন, 'মিলন মণ্ডলের ঋণের বিষয়ে আমি ব্যাংকে সুপারিশ করেছি। ঋণ নেওয়ার আগে মিলন মণ্ডল আমার কাছে ১২ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল, আমি ওই ধারের টাকা নিয়েছি।'
মিলন মণ্ডলের বাবা আবদুল কাদের মণ্ডল আক্ষেপ করে বলেন, 'লোনের (ঋণের) ট্যাকা দিয়া একটা রিকশা কিনতে চাইছিল মোর ছইলটা। কিন্তুক সেইটা আর হইলো না।' তিনি আরও বলেন, '৫০ হাজার টাকার মধ্যে মিলন পাইছে ১৫ হাজার। দালালেরা সউগ (সব) ট্যাকা ভাগ করি নিচে। কিন্তু, ব্যাংকে লোনের ট্যাকা গুলাতো হামাকেই পরিশোধ করবার নাগবে। এখন হামরা কার কাছে বিচার দেমো, বাবা?'
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) শুকুরেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক খন্দকার লিমন হাবিব সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'এই শাখায় দালালের কোনো স্থান নেই। আমরা মিলন মণ্ডলকে ঋণের ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়েছি। ব্যাংকের বাইরে তাদের কিছু হয়ে থাকলে, সেটার দায়ভার ব্যাংক বহন করবে না।'