সভায় বাপার সহসভাপতি ইকবাল হাবিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নেতিবাচক পরিবেশের প্রভাবে ডেঙ্গুর এই বিস্তার। সরকারি কর্মকর্তারা রোগটির ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমন্বিত কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সঠিকভাবে হয় না।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ঢাকায় কোনো জনস্বাস্থ্য কাঠামো নেই। ফলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই সব হচ্ছে। এজন্য স্বাস্থ্যসেবায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে তা বিনামূল্যে করে দিতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগী শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মশা নিধন কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে।
ডা. মুশতাক বলেন, রেলওয়ে হাসপাতালকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়াতে হবে। এতদিনে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা যায়নি, যা করোনার সময়ে ছিল। স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতা মিটিয়ে ফেলতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেনিন চৌধুরী বলেন, সরকার ডেঙ্গু রোগীর যে তথ্য দিচ্ছে, তা ১২ ভাগের ১ ভাগ। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কলকাতা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তেমন একটি পদক্ষেপও আমরা নিইনি। দেশে ডেঙ্গু বিবর্তনের কোনো গবেষণা সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি।
আগস্ট, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কীটতত্ত্ববিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
সভায় বক্তব্য দেন বাপার সভাপতি নূর মোহাম্মাদ তালুকদার ও ডক্টরস ফর হেলথ এনভায়রনমেন্টের সভাপতি এম আবু সাঈদ। সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।