২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের সময় এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এবার সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া নিয়েও তেমন বিতর্ক সামনে এসেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দুই দফা সাংবাদিকদের প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনও সাংবাদিকদের কাছে সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কিন্তু আইনটি নিয়ে অনেকের বিভ্রান্তি কাটছে না। এমন অবস্থায় আজ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে আবারও এ বিষয়ে কথা বলা হবে। দুপুর ২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ রহিতকরণ এবং নতুনভাবে প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বিষয়ক’ ওই সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক উপস্থিত থাকবেন।
বিদ্যমান আইন এবং প্রস্তাবিত আইনের দর্শনগত তেমন পার্থক্য নেই বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তির পরিধি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশাল এই পরিধিকে ধারণ করতেই আইনটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, ‘কোনো আইনের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায়োগিক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হয় না। আইনে উল্লেখ করা অপরাধের বিপরীতে শাস্তি বা জরিমানার পার্থক্য কতটুকু হচ্ছে– সেটাই বিবেচ্য বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘নাম পরিবর্তন হয়তো সমালোচনার জায়গা থেকে করা হয়েছে। কারণ আইনটির বিরুদ্ধে অনেক বেশি কথা হয়েছে, যে কারণে সরকার হয়তো আইনের শিরোনামটি পরিবর্তন করতে চাইছে।’
তবে তর্কবিতর্ক যাই থাকুক– এ ধরনের আইনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তানজীব উল আলম বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে ব্যক্তির শাস্তির চেয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। এখন বৈশ্বিক পরিসরে ভৌগোলিক সীমান্ত দিয়ে আঘাতের পরিবর্তে সাইবার আক্রমণ অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। যদিও এই জায়গায় আইনে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলেই মনে হয়।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চরিত্র নিবর্তনমূলক। ওই নিবর্তনমূলক বৈশিষ্ট্য রেখেই সরকার নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে আইনের ধারা বদলের আগে সরকারের মন বদলাতে হবে। সরকার আন্তরিকভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়বস্তু সংশোধন করতে চায় কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ আরিফ খান বলেন, ‘নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে যদি বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত আইনের দর্শনগত পার্থক্য বোঝা যেত তাহলে নাম পরিবর্তন সার্থক হতো। একই বিষয়বস্তু রেখে নাম পরিবর্তনের কোনো মানে হয় না।’
খসড়ায় ‘ডিজিটাল’ শব্দের ব্যবহার
প্রস্তাবিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর খসড়া এখনও প্রকাশ করেনি সরকার। তবে শিরোনামে পার্থক্য ছাড়া নতুন আইনের খসড়ায় ‘সাইবার’ শব্দের চেয়ে এখনও ‘ডিজিটাল’ শব্দের ব্যবহার বেশি রয়েছে বলে জানা গেছে। যেমন, আইনের সংজ্ঞা অংশে আলাদাভাবে শুধু সাইবার অপরাধের বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংজ্ঞায় ‘ডিজিটাল’ শব্দটি যতবার এসেছে প্রস্তাবিত আইনেও প্রায় সেভাবেই রয়েছে।