২৪ আগস্ট বিচারপতি মো: খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো: খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ উভয় পক্ষেল শুনানি গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
আদেশের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলেছেন, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।
আদালতে পক্ষভুক্ত হতে আইনজীবী আবদুল জব্বার ভূইয়া আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
অন্যদিকে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও আইনজীবী সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব।
শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এখানে যার কথা বলা হচ্ছে তার বক্তব্য দেশের মেজরিটি মানুষের। এখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয় রয়েছে। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মতামত নেয়া উচিত। তা না হলে দেশের সব নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এডিশনাল পার্টির নামে তাদের আবেদন তারেক রহমানের পক্ষে। তারা এভাবে আসতে পারে না। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিতে পারেন।’
আদেশের পর বিএনপির আইন সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, ‘সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেছেন, মূলত জনস্বার্থের নামে ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে এই রিট করা হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের স্বার্থে এই রিট করা হয়েছে। কারণ তারেক রহমানের বক্তব্যে অনুপ্রণিত হয়ে দেশের লক্ষ্য কোটি মানুষ সরকার বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছে। সেটি যাতে না হতে পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই করা হয়। আমরা এটা রিটে এডিশনাল পার্টি হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। সেই আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার ভূইয়া। কিন্তু আদালত আবেদন খারিজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করব।’
এর আগে বুধবার আইনজীবী আবদুল জব্বার ভূইয়া রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন। এছাড়া ওইদিন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই-রাকিব আতালতকে জানান, রুলের লিখিত জবাব দেবে বিটিআরসি। পরে এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করেন আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার এমামলার রুলের শুনানি জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। ওইদিন আদেশের সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা রাজনৈতিক বিষয় আদালতে না আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা আদালতে বলেন, যে ঠিকানায় আদালতের রুলের নোটিশ জারি করা হয়েছে সেটা বিএনপির পার্টি অফিস। সঠিক ঠিকানায় নোটিশ জারি না হওয়া পর্যন্ত রুল শুনানি করা ঠিক নয়। এখানে রাজনৈতিক দলের নেতার কণ্ঠা রোধ করতেই কোর্টকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে বাদিপক্ষ।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রিক ও অনলাইনসহ গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য প্রচার বন্ধ করা প্রশ্নে জারি করা রুলের নোটিশ রিটে উল্লেখিত তারেক রহমানের ঠিকানা ভুল থাকায় তা সংশোধন করে তারেক রহমানের গুলশানের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানোর আদালতের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ৮ আগস্ট এ মামলার শুনানি নিয়ে আদালতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ওইদিন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বলেন, রুলস অনুযায়ী অবশ্যই নোটিশ দিতে হবে তারেক রহমানকে।
২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিয়ে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো: সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ অর্ন্তর্বতীকালীন এ আদেশ দেন।