calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / তথ্য ও প্রযুক্তি / সাইবার নিরাপত্তা আইন
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
তথ্য ও প্রযুক্তি বিশেষ প্রতিবেদন

সাইবার নিরাপত্তা আইন

বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে পাশ হয়ে গেল সাইবার নিরাপত্তা বিল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে নতুন বিলটি পাশের জন্য প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ • সন্ধ্যা ০৬:১১
history আপডেট: ৩ বছর আগে
timer ৫ মিনিট পড়ার সময়
visibility ২৫ বার পঠিত

এ আইনে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার, সর্বোচ্চ শাস্তি কোটি টাকা জরিমানা এবং ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান তো রইলই, বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি এবং পুলিশের ইনস্পেকটর পদমর্যাদার কর্মকর্তার হাতে গ্রেফতারের ক্ষমতাও থাকল। তবে মন্দের ভালো-কেউ মিথ্যা মামলা করলে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য করে সাজার বিধান রাখা হয়েছে। অবশ্য সংবিধানে অন্যান্য আইনের ক্ষেত্রেও এমন উল্লেখ আছে।

 আইনটি পাশের সময় বিলের বিভিন্ন ধারার সমালোচনা করে সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বলেছেন, মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের স্বীকৃতি সংবিধানেই দেওয়া হয়েছে। অথচ এই বিলের বিভিন্ন ধারায় সংবিধান স্বীকৃত এসব অধিকার খর্ব করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা এ সময় বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও তল্লাশির বিধান সংশোধনের দাবি জানান। এসব দাবি অবশ্য ধোপে টেকেনি।

শুধু বিরোধী দলই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও বলা হচ্ছিল, লোক দেখাতে আইনটিতে শুধু কয়েকটি ধারা পরিবর্তন, সাজার পরিমাণ কমানো এবং জামিনযোগ্য ধারা বাড়ানো হয়েছে। মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে আগের আইনের বিদ্যমান আশঙ্কার জায়গাগুলো রয়েই গেছে।

মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন বলে আসছিল, আগের আইনের মতোই সাইবার নিরাপত্তা আইনও মূলত ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা যেভাবে আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, নতুন আইনটিও একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, আইনটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি।

একথা ঠিক, ভার্চুয়াল জগতে ভুল তথ্যের প্রবাহ যাতে অবাধ না হয়, সেজন্য বিশ্বের অনেক দেশেই এ সম্পর্কিত আইন রয়েছে। কিন্তু বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য তার অপব্যবহার ঘটেছে বলে শোনা যায় না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে সমালোচিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন’ বদলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ করা হয়েছিল। এবারও জাতীয় নির্বাচনের আগে একই উদ্যোগ দেখা গেল। স্বভাবতই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সদ্য পাশ হওয়া সাইবার নিরাপত্তা আইন সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে হুমকি হয়ে দেখা দেবে কি না, এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ থাকাটা তাই স্বাভাবিক।

এ অবস্থায় সরকারকে এটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে যে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হলো, তা বিরোধী মত দমন এবং মুক্ত মতপ্রকাশ বাধাগ্রস্ত করতে ব্যবহার করা হবে না। এ লক্ষ্যে আইনটির সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়েছে। নয়তো আইনটি যে নামেই আসুক, হয়রানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।