দুদুর পক্ষে মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মহসিন মিয়া, ওমর ফারুক ফারুকী ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
মাসুদ তালুকদার বলেন, তিনি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন। অত্যন্ত ভদ্র একজন মানুষ। তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করতে পারেনি যে, তিনি রূঢ় আচরণ করেছেন। আজ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা চালানোর। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। শামসুজ্জামান দুদু ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগী। অবস্থা এমন, যেকোনো সময় একটা অঘটন ঘটতে পারে। বয়স, ভালো মানসিকতা, অসুস্থতা বিবেচনা করে জামিন দিন।
ওমর ফারুক বলেন, মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই সাউন্ড গ্রেনেড হামলা শুরু। ২টায় মহাসমাবেশ শুরুর আগেই রাস্তা ফাঁকা। পুলিশ বুলেট-বোমা মেরে, মানুষ হত্যা করে রাস্তা ফাঁকা করে দিলো। মিটিং শুরুই তো করা যায়নি। তাহলে, উনি বক্তব্য দিলেন কখন? এ ঘটনায় প্রধান বিচারপতি আজ পর্যন্ত কোনো বিবৃতি দিলেন না। আওয়ামী লীগের লোকজন পতাকাসম্বলিত লাঠি নিয়ে এসে সমাবেশে হামলা করে। আমাদের লোকজন বেশি ছিল। এ কারণে তারা প্রধান বিচারপতির বাসার গেট ভেঙে ঢুকে হামলা করে। পুলিশ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। প্রধান বিচারপতির বাড়িকে আর কত ব্যবহার করবেন চলমান আন্দোলন দমানোর জন্য।
মহসিন মিয়া বলেন, সমাবেশ শুরুর আগে সাউন্ড গ্রেনেড হামলা। আর বলা হচ্ছে, দোকানে আগুন দেয়া হয়েছে। সেখানে তো কোনো দোকান নেই। ফলস ফেব্রিকেটেড। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এখন তো প্রযুক্তি অনেক উন্নত। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যাবে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মিথ্যার একটা সীমা থাকে। এটা সীমাহীন মিথ্যা। বহিষ্কৃত নেতা জাহাঙ্গীরের শোডাউনের লোকজন প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
এসব বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, আওয়ামী লীগের কি ঠেকা পড়েছে? দেশের জনগণ দেখেছে, কারা হামলা চালিয়েছে?
প্রধান বিচারপতি বিবৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা মানায়? উনি তো একটা প্রতিষ্ঠান। আর সিসি ক্যামেরা তারা কেটে ফেলেছে।
এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, শামসুজ্জামান দুদু কিছু বলতে চান।
আদালত তাকে বলার অনুমতি দেন। পরে শামসুজ্জামান দুদু আদালতে বক্তব্য দেন।
এর পর আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।