দণ্ডপ্রাপ্তরা যেদিন আটক হবেন সেদিন থেকেই এই রায় কার্যকর হবে বলে রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন। মামলার বাদি শাহিনুর রহমান রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন এই রায়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হতাশ হয়েছেন। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন যুদ্ধাপরাধ মামলার আইনজীবী রাজশাহীর মিজানুল ইসলাম।
মামলার বাদি নাটোরের লালপুর উপজেলার পুকুরপাড়া চিলান গ্রামের শাহিনুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলকারীরা বাদির চাচা আব্দুল জলিলের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগমকে মারপিট করে বাড়ি ঘরে ভাংচুর লুটপাট করে। তাদের চিৎকারে বাদির বড় ভাই খায়রুল ইসলাম (৩০) ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল ও রামদা দিয়ে আঘাত করে। এতে খায়রুল ইসলাম মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই খায়রুল মারা যায়। এ বিষয়ে তিনি লালপুর থানায় ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, বাড়ি ঘরে ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ৬৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর মামলার স্বাক্ষ্য প্রমাণ শেষে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক মো: মুহিদুজ্জামান মামলার ১৩ অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় অন্য ৫২ জনকে খালাস প্রদান করেছেন। তবে খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০ জন রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত থাকায় তারা আদালতে হাজির হওয়ার পর থেকে খালাস কার্যকর হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেছেন।