ডিম- ডিম নিয়ে এত দিন অনেক ভীতিজনক কথা বলা হয়েছে। যেমন- ডিমের সাদা অংশ উপকারী। কুসুম অত্যন্ত ক্ষতিকর কোলেস্টেরল তৈরি করে। কিন্তু সর্বাধুনিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, উল্লেখিত মন্তব্য ভিত্তিহীন বরং ডিম অত্যন্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। এর সাদা অংশ অপেক্ষা কুসুম অধিক উপকারী। ডিমের সাথে হৃদরোগের কোনো সম্পর্ক নেই। ডিম হার্টের কোনো ক্ষতি করে না। হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায় না। ডিমের কুসুমে সর্বপ্রকার পুষ্টি বিদ্যমান।
নৈশখাবার দেরিতে খাবেন না- আমাদের দেশে প্রায় সব পরিবারে রাতের খাবার খেতে রাত ১০ থেকে ১২ টা বাজে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাতের খাবার রাত ৯ টার মধ্যে খেয়ে নেয়া উচিত, যাতে খাওয়ার পর ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম হয়। খাওয়ার পর পাকস্থলী যদি দীর্ঘ সময় বিশ্রাম পায়, তাহলে হজমশক্তি যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি শরীরের ওজনও সঠিক থাকে। জাপানিরা সূর্যাস্তের পরই রাতের আহার শেষ করে। তার পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা নাশতা ও চা খায়।
কফিভীতি ভিত্তিহীন- আমাদের মধ্যে অনেকেই কফি পান করতে ভয় পায়। আসক্তি হতে পারে। কফি পান ক্ষতিকারক ইত্যাদি ভীতি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা ও ভীতি অমূলক; বরং কফি ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী। দৈনিক পাঁচ কাপ দুধবিহীন কফি পানে ডায়াবেটিস কমে আসে। তাদের মতে, কফি স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয় পানীয়। এতে উচ্চমাত্রায় এন্টি অক্ষিডেন্ট বিদ্যমান। গবেষকদের মতে, কফিপায়ীরা দীর্ঘ জীবন লাভ করে। কফি ডায়াবেটিস-২ হ্রাস করে। পারকিনসন্স রোগ ও আলঝিমার্স রোগ আক্রমণ করতে পারে না। কাজেই কফিভীতি অমূলক, ভিত্তিহীন বরং কফি পান (অবশ্যই দুধবিহীন) স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
নিজের ইচ্ছামতো খান- আপনার যদি জানা থাকে এবং আপনি একজন স্বাস্থ্য সচেতন সুখী মানুষ হন দৈনিক একটা নাশপাতি খান। যেসব খাদ্যে উচ্চমাত্রায় চর্বি থাকে এবং বেশি পরিমাণে চিনি থাকে এবং বেশি ক্যালোরি থাকে, সেসব খাবারের চেয়ে নাশপাতি অনেক ভালো খাবার। গবেষকেরা বলেন, ফলমূল ও শাকসবজি সবচেয়ে ভালো খাদ্য। কারণ এসব খাবার আমাদের ইতিবাচক আবেগ-অনুভূতির সৃষ্টি করে। তাই আমাদের সবার বেশি সালাদ ও তাজা ফলমূল খাওয়া উচিত। দিনে ১০ থেকে ১২ টার মধ্যে ফল ভক্ষণ করতে হয়। তবে সালাদ দিনে-রাতে সব সময় খাওয়া চলে।
কোন খাদ্যে কী অনুভূতি হয়- যত বেশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবেন আপনার মনমেজাজ তত ভালো হবে। যত বেশি ফার্স্টফুড (সিঙ্গাড়া, বার্গার, পিজা, পেটিস, মিট রোল ইত্যাদি) খাবেন তত বেশি অস্বস্তি বোধ করবেন। অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কারণ, এগুলো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নয়। বরং এগুলো আপনার পেটে গ্যাস উৎপন্ন করবে, ব্যথা হবে, বমি বমি ভাব ও বমি হতে পারে। হজমের গোলযোগ তৈরি করবে। পাতলা পায়খানা হতে পারে। কলেরা ও আমাশয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।
গরমের খাবার- একটু একটু করে গরম পড়তে শুরু করেছে। গরমকালে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, তাই পানিসমৃদ্ধ ফলমূল ও বেশি বেশি পানি পান অত্যাবশ্যক। গরমে স্ট্রবেরি, কালো জাম, তরমুজ, বাঙ্গি, পাকা কাকুড়, লিচু ইত্যাদি শ্রেষ্ঠ খাবার। এগুলোও এন্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, এগুলোতে উচ্চমাত্রায় আঁশ আছে, ক্যালোরি নগণ্য এবং বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। সর্বপ্রকার প্রায় কালো ও সবুজ পাতাবিশিষ্ট সবজি যেমন- স্পিনাক, পালংশাক, মুলাশাক ও পুঁইশাক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এসব খাদ্যে হৃদবান্ধব উপাদান ফলিক এসিড, ভিটামিন ‘কে’, লৌহ ও লুটেন ইত্যাদি স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক। তাই বলা হয়, পুষ্টিহীন আর কম দৃষ্টিহীন- শাকসবজি খাওয়ান প্রতিদিন