জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের কিছুসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী ডাইনিং চালু করেছেন। সেখানে মাত্র ১০০ টাকায় তারা দুই বেলা খাচ্ছেন। খাবারের স্বাদ ও মানে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, বলছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে দুপুরের আয়োজনে ছিল কোয়ার্টার সাইজের মুরগির রোস্ট, পোলাও, ডাল দিয়ে মুরগি ও সবজি। এর সঙ্গে রাতে ছিল ভাত, ডাল, মুরগি অথবা ডিম এবং ভর্তা। অন্যান্য হলেও একই অবস্থা। ১৮ আগস্ট বাকৃবির ৬৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আশরাফুল হক হলে অবস্থানরত ১২৬ শিক্ষার্থী মিলে আয়োজন করে ফিস্টের, যেখানে জবাই করা হয় দুটি খাসি। এ ছাড়া আরও ছিল পোলাও, মিষ্টি, পায়েস, সফট ড্রিংক, সবজি, ডাল। শিক্ষার্থীদের চাঁদা এবং হল প্রশাসনের সহায়তায় তারা এ আয়োজন করেন।
স্বল্প টাকার মধ্যে অনেক ভালো খাবার খেতে পারছেন বলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। আগে যে টাকায় খুব সাধারণ পর্যায়ের নিম্নমানের খাবার পেতেন, একই টাকায় তারা এখন ফিস্ট উদযাপন করছেন। তাই ডাইনিংয়ে খাওয়ার জন্য রীতিমতো ভিড় তৈরি হয় হলগুলোতে। শিক্ষার্থীরা সবাই হলে এলে খাবারের মান আরও ভালো হবে বলে আশাবাদী তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আগে ডাইনিং নিয়ন্ত্রণ করতো ছাত্রলীগের নেতারা। তারা ডাইনিংয়ের টাকা নিজেরা ভোগ করতো। এতে ডাইনিংয়ের খাবারের মান ছিল নিম্ন। কেউ খেতে চাইত না। জুনিয়রদের জোর করে ডাইনিংয়ে খাওয়ানো হতো। বাকিরা বাইরের হোটেলে খেতেন। কখনো কখনো পুরো মাসের টাকা নিয়ে ১৫-২০ দিন পরই বন্ধ হয়ে যেত ডাইনিং। এতে বিপাকে পড়তে হতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্রলীগের হস্তক্ষেপ থাকায় প্রতিবাদ করারও সাহস পেতেন না তারা। এখন তারা আশা করছেন হলে ছাত্রলীগ না থাকায় সবাই ডাইনিংয়ে ভালো খাবার পাবেন, সারা মাস ডাইনিং চালু থাকবে এবং সবাই ডাইনিংয়ে খেতে আগ্রহী হবেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ছাত্রলীগের নোংরা ছাত্ররাজনীতির কারণে হলে ছিল গ্রুপিং। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে কখনো সবাই মিলে ফিস্ট করা হয়নি বলে জানান ওই হলের শিক্ষার্থীরা। ফিস্টের টাকা এবং খাবারেও আগে অধিকার ছিল না শিক্ষার্থীদের। স্বাধীনভাবে আজ ফিস্ট করে খুবই উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। সিনিয়র-জুনিয়র একটি সুন্দর সম্পর্ক চান তারা। নোংরা, নির্মম ছাত্ররাজনীতি চান না তারা। ১২০০ একরের সব ক্ষেত্রে থাকবে শুধু শান্তি, কৃষি ও গবেষণায় তারা হবে অগ্রগামী- এমনটাই প্রত্যাশা।