খুলনার ফুলবাড়িগেট রেল ক্রসিংয়ের গেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘ধার দেনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে আমাদের চলতে হচ্ছে। মানসিকভাবে আমরা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। ৭ মাস বেতন পাই না। কবে বেতন পাবো তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। মানসিক চাপ নিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় কিভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং যানবাহন রক্ষা করবো এটাই এখন আমার প্রশ্ন।’
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন পাকশী'র বিভাগীয় প্রকৌশলী-১'র একটি প্রকল্পের আওতায় ওই গেটে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মেহেদী হাসান আরো বলেন, ‘গত রমজান মাসে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে আমরা ১৭ দিন অনশন পালন করি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই হতাশ।’
পুরানো আমলের সিগন্যাল ব্যবস্থা মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ট্রেন চলাচলের সময় গেট আটকাতে কোনো কারণে সামান্য দেরি হলে অনেকে আমাদের মারধর করতে আসেন। আবার কোনো কারণে গেট একটু আগে আটকালেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এককথায় কর্মস্থলে আমরা কোনক্রমে নিরাপদ নই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেল ক্রসিং পারাপারে জনসাধারণসহ যানবাহনের দুর্ঘটনা এড়াতে অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক গেটকিপার নিয়োগ দেওয়া হয় । সারাদেশের রেলের ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিং এ দুর্ঘটনা এড়াতে দিবা-রাত্রি ২৪ ঘণ্টা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করছেন এ সব গেট কিপার।