এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশু মো. শাহিন মোল্লার মা সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, চর গাছাবাড়ি গ্রামের মো. বেল্লালের ছেলে মো. মোন্নাফ (২৩), একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মো. হযরত (২৬) ও চর সয়দাবাদের মো. সবুজ (১৯)।
আহত শিশুরা হলেন, সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের চর গাছাবাড়ি গ্রামের মো. মোমিনের ছেলে মো. নূর ইয়ামিন (১০), একই গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান ওরফে ইমন (১০), মো. মনিরুদ্দিনের ছেলে মো. জুনাইদ (১১) ও মো. নবীদুল মোল্লার ছেলে মো. শাহিন মোল্লা (১৩)। এদের মধ্যে তিন শিশু সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল থেকে নূর ইয়ামিনের মা উম্মে কুলসুম ও জুনায়েদের দাদী লিলি খাতুন বলেন, মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত সোমবার হযরত আলী, মুন্নাফ ও সবুজ চার শিশুকে ডেকে ভ্যানগাড়িতে করে পঞ্চসোনা গ্রামে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আটকে রেখে তাদের মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়িতে ফোন দিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন তারা। স্থানীয় লোকজন আসার খবরে চার শিশুকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও অভিযুক্তরা সালিশে উপস্থিত হননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু নূর ইয়ামিন ও জুনাইদ বলে, আমরা মোবাইল চুরির বিষয়ে জানতাম না। আমাদের ডেকে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে রড দিয়ে মারপিট করে, বিড়ির আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে।
অভিযোগকারী সেলিনা খাতুন বলেন, শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে মারপিট করার পর তাদেরকে বলেছে, বাড়িতে ফোন দিয়ে বল দেড় লাখ টাকা দিলে তোদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে। খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থলে গেলে আমাকেও মারপিট করে ওই সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় লোকজন এলে তারা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমাছ আলী বলেন, হযরত আলীর তাঁত ফ্যাক্টরি থেকে মোবাইল চুরি হয়েছিল। ওই চার শিশুকে চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে চড়-থাপ্পড় দিয়েছে। পরবর্তীতে বেলকুচির তামাই এলাকা থেকে ফোনটি উদ্ধার হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, মোবাইল চুরির অপবাদে চার শিশুকে আটকে রেখে মারধরের বিষয়ে থানায় অভিযোগ হয়েছে। ইতিমধ্যেই এব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।