জানা যায়, গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের অনেকের ভাগ্য উন্নয়নে শ্রম দিয়ে অনেক বছর ধরে এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে নিয়োজিত কাজিপুর, শাহজাদপুর সহ তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামের প্রায় ৬০-৭০টি পরিবার।
সরেজমিন উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রামে দেখা যায়, সারি সারি কুমড়ো বড়ি তৈরি করে শুকানোর জন্য রোদে দিয়েছেন। আর এ কাজের নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও কাজ করে চলেছেন। সারা বছর তৈরি করা সম্ভব হলেও এটি শীতকালেই বেশি তৈরি করা হয়।
উপজেলার নওগাঁ গ্রামের ভাংশিং পাড়ার আবদুল হামিদ জানান, কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী পরিবারগুলো প্রথম অবস্থায় তেমন সচ্ছল ছিল না। এই ব্যবসা করে তারা এখন অনেকটাই সচ্ছল অবস্থানে এসেছে। তাছাড়া বড়ি তৈরির জন্য আগে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সন্ধ্যায় ডাল ভিজিয়ে রাখতেন এবং পরের দিন তারা কুমড়ো বড়ি তৈরির জন্য ডাল, রং, তেল, টিন ও শীলপাটায় বেটে বড়ি তৈরি করতেন। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় এখন মেশিনের মাধ্যমে কুমড়ো বড়ি তৈরির ডাল ফিনিশিং করা হয়।
কাজিপুরের চরগিরিশ এলাকার কুমড়ো বড়ি ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন জানান, হাটবাজারে কুমড়ো বড়ি বর্তমানে খুচরা ২৫০-৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে আশা করছেন আর কয়েক দিন পর আরও দাম বাড়বে। কারণ এ বছর ডালের দাম বেশি, তাই কুমড়ো বড়ির দামও বেড়েছে।
তাড়াশ উপজেলার কুমড়ো বড়ির কারিগর হাসনাহেনা জানান, অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলের কুমড়ো বড়ি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। বিশেষ করে রাজধানিতে এর চাহিদা রয়েছে বেশি।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, অতিসম্প্রতি কাজিপুরের চরাঞ্চলে অনেক মানুষই কুমড়ো বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বড়ি তৈরী করে অনেক পরিবারই আর্থিক ভাবে সফলতা লাভ করেছে। তাছাড়াও চরাঞ্চলের কুমড়ো বড়ির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ অঞ্চলের কুমড়ো বড়ির কদর রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এই কুমড়ো বড়ি তৈরী করে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারে আজ স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। প্রয়োজনে এদের সহায়তা প্রদানের কথা জানান তিনি। তিনি আরও জানান এই এলাকায় পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাই বেশি কাজ করে চলেছেন।