কৃষকেরা বলছেন, রফিকুল ইসলাম গত বুধবার স্থানীয় কোনো কৃষককে না জানিয়ে নতুন একটা তালা কিনে গভীর নলকূপের দরজায় লাগিয়েছেন। তালা দেওয়ার পর থেকে অনেক কৃষক তাকে খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি শুনছেন না। এ অবস্থায় বোরো ধানের বীজ বপন, গম ও পেঁয়াজের সময়মতো সেচকাজ না হল ক্ষতির মুখে পড়বেন মাঠের কৃষকেরা।
গভীর নলকূপের অপারেটর আতাউল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, ১১ বছর আগে আমাদের জমিতে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন। সে সময় থেকে প্রথমে আমার বাবা ও পরে আমি অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছি। গত বুধবার কৃষকেরা পানির জন্য ফোন দিলে নলকূপ চালু করতে গিয়ে দেখি নতুন তালা লাগানো। পরে স্থানীয়রা জানায় রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জবরদখল করে তালা লাগিয়েছেন। কৃষকেরা বার বার বললেও নলকূপ চালু করতে পারছিনা। বিষয়টি বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
মাঠের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বোরো ধানের চারা তৈরির জন্য বীজ বপন করবো কিন্তু পানির জন্য তিনদিন ধরে ঘুরেও পানি পাইনি। রফিকুল নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে গভীর নলকূপে তালা ঝুলিয়েছেন। অথচ কয়েক মাস আগেও জানতাম না সে কখনও রাজনীতি করেন। সে কোনো পদ-পদবিতেও নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে নলকূপ চালু করা না গেলে কৃষকেরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
আরেক কৃষক কাজেম আলী বলেন, রফিকুল নলকূপের ঘরে তালা ঝুলিয়েছেন অথচ মাঠে তার এক ছটাক জমিও নাই। ধানের চারা ফুটেছে কিন্তু পানির অভাবে জমিতে ফেলতে পারছিনা। গভীর নলকূপের যারা সদস্য আছেন তারাও তালা লাগানোর বিষয়ে কিছু জানেন না। একজন ব্যক্তির কাছে আমরা কৃষকেরা অসহায় হয়ে পড়েছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, নলকূপ অপারেটর সঠিকভাবে পানি বণ্টন করেন না সেজন্য তালা লাগিয়েছি। মাঠে তার কোনো জমি আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমার কোনো জমি নেই, কিন্তু কৃষকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন সেজন্য তালা দিয়েছি।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চারঘাট উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হানিফ শিকদার বলেন, রফিকুল ইসলামের গভীর নলকূপের ঘরে তালা লাগানোর কোনো এখতিয়ার নেই। কোনো সমস্যা থাকলে তিনি আমাদের অভিযোগ দিতে পারেন। এভাবে কৃষকের সমস্যা করে তালা লাগানোটা অন্যায়। বিষয়টি উর্ধতন কৃতপক্ষকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।