যেকোনো চাকরিতে আবেদন করার প্রথম ধাপ হলো সিভি পাঠানো। এই সিভি নিয়েই পর্যাপ্ত ধারণা নেই অনেক চাকরি প্রত্যাশীর। ভালো সিভি বানানোর দক্ষতা না থাকার ফলে অধিকাংশ আবেদনকারী বাদ পড়েন চাকরির প্রথম ধাপেই। ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, বাংলাদেশে এখন বেকার লোকের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এই বেকারদের একটি বড় অংশই সিভি তৈরি নিয়ে থাকে বিড়ম্বনায়।
বর্তমানে অনলাইনে সিভি তৈরির বেশ কিছু প্লাটফর্ম থাকলেও সেগুলোতে মানসম্পন্ন সিভি ডিজাইন করতে বেশ খানিকটা সময় দিতে হয় ব্যবহারকারীকে। পাশাপাশি প্রয়োজন পড়ে কিছুটা প্রযুক্তিগত দক্ষতারও। বর্তমান সময়ের এমনই একটি জনপ্রিয় অনলাইন সিভি টুলস ক্যানভা। এছাড়াও প্রচলিত পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডস ব্যবহার করেও সিভি তৈরি করে থাকেন অনেকে। কিন্তু দুটি পদ্ধতিই বেশ সময়সাপেক্ষ। উভয় ক্ষেত্রেই একে একে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য টাইপ করে সিভি সম্পন্ন করতে হয় একজন ব্যবহারকারীকে। পাশাপাশি ওয়ার্ড বা ক্যানভার মতো প্লাটফর্মে আকর্ষণীয় সিভি প্রস্তুত করতে কিছুটা ডিজাইনিং দক্ষতারও প্রয়োজন রয়েছে।
তবে সময়ের সাথে এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বদলে দিয়েছে সিভি তৈরির প্রচলিত ধারণা। মেশিন লার্নিং চ্যাটবটের সাথে চ্যাট করে এখন ৫-৭ মিনিটে মানসম্মত সিভি তৈরি সম্ভব। ক্যানভা, এনহ্যান সিভিসহ বেশ কিছু অনলাইন সিভি বিল্ডার প্রতিষ্ঠান তাদের ফিচারে যোগ করেছে এআই ব্যবহার করে সিভি তৈরির সুযোগ। তবে এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে দক্ষ হতে হবে ইংরেজিতে।
যারা ইংরেজিতে দক্ষ নয় তাদের জন্যও রয়েছে সহজ সমাধান। আমি প্রবাসীর সিভি বিল্ডার দিয়ে বাংলায় সহজ প্রশ্নের জাবাব দিয়ে বানানো সম্ভব সিভি। স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বা যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কম, তারাও এটি ব্যবহার করে সহজেই সিভি বানাতে পারবেন।
এই ফিচারে সিভি বানাতে হলে একজন ব্যবহারকারীকে শুধু মেশিং লার্নিং চ্যাটবটের প্রশ্নসমূহের উত্তর যেমন নাম, বয়স, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ইত্যাদি প্রদান করতে হয়। এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, অভিজ্ঞতা এগুলো খুব সহজেই একাধিক বিকল্প থেকে বেছে নেয়ার সুযোগ রয়েছে ব্যবহারকারীদের জন্য। এক্ষেত্রে টাইপ করারও প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে সহজেই খুব অল্প সময়ে তৈরি করা সম্ভব অত্যাধুনিক সিভি যা বাড়াবে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।