calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / সারা বাংলা / সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকায়
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
সারা বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন

সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকায়

সাব রেজিষ্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এলপিআরে আগে সপ্তাহে ৫০০ থেকে ৬০০ জমির দলিল রেজিস্ট্রি হতো এখন হয় ২০০ ৫দিন রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালু রাখার দাবি গাজীপুরের টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রার না থাকায়...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫ • দুপুর ০২:২৭
history আপডেট: ১ বছর আগে
timer ৯ মিনিট পড়ার সময়
visibility ২৭৪ বার পঠিত

বেলা ১১ টায় দলিল সাবমিট করলে বিকাল ও সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকরাও বেকার হয়ে পড়ছেন

টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা প্রায় একই রকম তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, সপ্তাহে দুদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোনো কারণে জমির দলিল না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোনো গ্যাপ থাকলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয়, বেলা ১১ টায় দলিল সাবমিট করলে বিকাল ও সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় সেবাপ্রার্থীদের। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। অনেকে ভোগান্তির কারণে দলিল সম্পাদন করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব দুর্ভোগের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকরাও বেকার হয়ে পড়ছেন।

টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা জমি বেচাকেনা করতে আসা ব্যাক্তিদের সঙ্গে সরেজমিনে আলাপকালে জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে তাদের দুর্ভোগের কথা জানা যায়। ১২ আগস্ট টঙ্গীর পাগাড় এলাকার বাসিন্দা খন্দকার জাহাঙ্গীর হক সেবা নিতে এসেছেন টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে। তিনি বলেন, শারিরিক অসুস্থতার কারণ জানিয়ে দ্রুত জমি রেজিস্ট্রি করার আবেদন জানিয়েছিলাম। কাঙিক্ষত সেবাটি আমি পাইনি। 

গাছা এলাকা থেকে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা কেফায়েত উল্লাহ বলেন, গত সপ্তাহে দলিল করতে এসে ঘুরে গেছি। দলিলের সিরিয়াল লম্বা হওয়ায় সব ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও দলিল সম্পাদন করতে পারিনি।

টঙ্গী দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন বলেন, সপ্তাহে মাত্র দুদিন দলিল হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। দলিল একেবারেই কমে গেছে। এতে এই পেশার সঙ্গে জড়িত দলিল লেখক, ভেন্ডার ও তাদের সহযোগীরা বেকার হয়ে পড়ছেন। টঙ্গী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কাজের যে ভলিয়ম তাতে ৫ দিন অফিসের কার্যক্রম চালু রাখার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জোর দাবি করছি, নিয়মিত সাব রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে ৫ দিন অফিস চালু রাখার ব্যবস্থা করতে।  

টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতি সপ্তাহে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা হতো সেখানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে । এখন ২০০-২৫০ টির বেশি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম তিনি একদিন বাড়িয়ে সপ্তাহে তিনদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রারকে আদেশ দিয়েছেন।

মুরাদ হোসেন বকুল, সাধারণ সম্পাদক টঙ্গী দলিল লেখক সমিতি

টঙ্গী দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন বকুল বলেন, টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতি সপ্তাহে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা হতো সেখানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে । এখন ২০০-২৫০ টির বেশি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম তিনি একদিন বাড়িয়ে সপ্তাহে তিনদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রারকে আদেশ দিয়েছেন।

টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, টঙ্গী সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে প্রতিদিন শতাধিক জমি রেজিস্ট্রি করা হতো।আমি খণ্ডকালীন এ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছি।তাই শতাধিক দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। টঙ্গীর কার্যালয়ে আমার সপ্তাহে তিন দিন অফিস করার নির্দেশ রয়েছে।


গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সপ্তাহিক পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গীতে তিনদিন ও কালিগঞ্জ উপজেলায় বাকি দুদিন জমি রেজিস্ট্রি করতে সাব রেজিস্ট্রার হাফিজুরকে নির্দেশ দিয়েছি। টঙ্গীর সাব রেজিস্ট্রার এলপিআরে রয়েছেন।পদ শূন্য থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। সাব রেজিস্ট্রারের যোগদানের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদের সাব রেজিস্ট্রার যোগদান করবেন।