calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / অন্যান্য / পবিত্র হায়াত মোবারক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন

পবিত্র হায়াত মোবারক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর

বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা আহমাদ মুজতাবা (সাঃ) এর পবিত্র জীবন কাল সম্পর্কে জানার আগ্রহ কার না আছে? এই পৃথিবীর সকল মানুষ, দেশ, জাতি, বর্ণ, গোত্র ও ধর্ম নির্বিশেষে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রশংসা করেন এবং তাঁর প্রতি ভক্তি...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫ • বিকাল ০৪:৩৯
history আপডেট: ১ বছর আগে
timer ১২ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৬২ বার পঠিত

এই হাদীসটি নি¤েœাক্ত সাতটি হাদীস গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। যথা -
(১) সহীহ বুখারী ঃ হাদীস নং ৫৯০০;
(২) মুয়াত্তা ইমাম মালেক ঃ হাদীস নং ১৬৩৯;
(৩) সহীহ মুসলিম ঃ হাদীস নং ৬২৩৫;
(৪) সুনানে ইবনে মাজাহ ঃ হাদীস নং ১৩৫৪৩;
(৫) মুসনাদুল বাযযার ঃ হাদীস নং ৬১৮৯;
(৬) সহীহ ইবনে হিব্বান ঃ হাদীস নং ৬৩৮৭;
(৭) শারহুস সুন্নাহ ঃ হাদীস নং ৩৭৩৫।
আলোচ্য হাদীসের রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র হায়াত মোবারক এর যে দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে তা’ হলো এইঃ
(ক) নাবুওয়াত লাভের সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বয়স ছিল ৪০;
(খ) এরপর মক্কায় তিনি ১০ বছর অবস্থান করেছেন;
(গ) তারপর মদীনায় তিনি ১০ বছর অতিবাহিত করেছেন;
(ঘ) তারপর ৬০ বছর বয়সে মহান আল্লাহ পাক তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন।
এই হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত আনাস (রাঃ) দীর্ঘ ১০ বছর কাল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খাদেম ছিলেন। ১০ বছর বয়সে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমত শুরু করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল মদীনার খাজরাজ গোত্রের নাজ্জার শাখায়। তাঁর আম্মাজান নূর নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করেছিলেন ঃ
ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)!
আপনি আনাসের জন্য দোয়া করুন।
তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই বলে দোয়া করেছিলেন ঃ
হে আল্লাহ! আপনি আনাসের সন্তান ও ধন সম্পদ বৃদ্ধি করে দিন এবং এতে বরকত দান করুন!
হযরত আনাসের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দোয়া কবুল হয়েছিল। তাঁর সন্তানও ধন-সম্পদ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তিনি (আনাস রাঃ) বলেন ঃ আমি নিজ হাতে আমার ঔরসজাত ১২৫ জন সন্তান দাফন করেছি। এদের মধ্যে দু’জন কন্যাও ছিল। আমার বাগানে বছরে দু’বার ফসল হতো।

তিনি অধিক সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী ৭ জন সাহাবীর মধ্যে তৃতীয় স্থানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ২২৮৬ টি।
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে ৮টি বড় বড় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। হিজরী ৯৩ সালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।

হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পবিত্র হায়াত মোবারকের যে দিকনির্দেশনা বিবৃত হয়েছে তা’ পৃথক পৃথক ভাবে পর্যালোচনা করলে মূল বিষয়টি অনুধাবন করা সহজতর হবে বিধায় সেদিকে নজর দেয়া একান্ত দরকার।

আসুন, এদিকে আমরা মনোযোগী হই।
(ক) নাবুওয়াত লাভের সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বয়স ছিল ৪০ বছর। এ দিক নির্দেশনাটি অধিক গ্রহণযোগ্য ও সঠিক।
পিয়ারা নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নাবুওয়াতের সূচনা হয় রুইয়ায়ে সাদেক অর্থাৎ সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তাঁর ৪০ বছর পূর্তির রবিউল আউয়্যাল মাস হতে সত্য স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। স্বপ্নে তিনি যা দেখতেন তাই হুবহু বাস্তবে রূপায়িত হত। এ স্বপ্ন দেখার মাধ্যমেই তাঁর নাবুওয়াত লাভের শুভ সূচনা ঘটে। এ স্বপ্নধারা পরবর্তী ৬ মাস অর্থাৎ রমজান মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে জাগ্রত অবস্থায় তিনি সর্বপ্রথম অহী লাভ করেন। এ অহী আল্লাহ পাকের নির্দেশে হযরত জিব্রাইল (আঃ) হেরা গুহায় এসে জাগ্রতাবস্থায় তাঁকে দান করেন। সত্য স্বপ্ন দেখা এবং জাগ্রতাবস্থায় অহী লাভ করা উভয়টিই নাবুওয়াত লাভের অংশ।

সুতরাং নাবুওয়াত লাভের সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বয়স ৪০ বছর ছিল তা’ সহজেই অনুমেয়।
তবে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিত একটি সাজ বা বিক্ষিপ্ত বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৪৩ বয়সে নাবুওয়াত লাভ করেন। যেহেতু এ বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য নয়, তাই সঠিক মত এটাই যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৪০ বছর বয়সে নাবুওয়াত লাভ করেন।

(খ) আলোচ্য হাদীসে নাবুওয়াত লাভের পর মক্কায় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অবস্থানকাল ১০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। এতদপ্রসঙ্গে স্মরণ রাখা দরকার যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নাবুওয়াত লাভ হতে হিজরত পর্যন্ত মক্কায় অবস্থানকাল সম্পর্কে তিন ধরণের রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। যথাঃ
১. দশ বছর।
যেমন আলোচ্য হাদীসে এসেছে, তিনি মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন।
২. তের বছর।
যেমন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে এসেছে তিনি মক্কায় তের বছর অবস্থান করেন।
[জামেয়ে তিরমিজীঃ ২/২০৩)
মোটকথা, নবী হিসেবে অবস্থান তিন বছর এবং রাসূল হিসেবে অবস্থান দশ বছর। (৩+১০) = ১৩ বছর। ১৩ বছর সংক্রান্ত বণর্নাকে জমহুর অর্থাৎ অধিকাংশ মুহাদ্দেশ ও ইমামগণ সঠিক, গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।
৩. হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণিত উল্লেখিত হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কায় ১৫ বছর অবস্থান করেন। তবে ১৫ বছর সংক্রান্ত বর্ণনাটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত নয়।
কেননা, হাদীস বিশারদ ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) সহীহ মুসলিমের বর্ণনা অপেক্ষা সহীহ বুখারীর বর্ণনাকে সর্বোচ্চ সহীহ বলে অভিহিত করেছেন।
তাছাড়া সহীহ মুসলিমের বর্ণনাটি আরবদের বছর গণনা রীতির বরখেলাপ ভগ্নাংশকে যোগ করেছে এবং এই একই সাথে নাবুওয়াত লাভ ও হিজরতের বছরকে স্বতন্ত্র দু’বছর ধরা হয়েছে।
এতে করে মোট (১০ + ৩ + ২) = ১৫ বছর হয়েছে। যা সমর্থনযোগ্য নয়।
(গ) আলোচ্য হাদীসে একথাও বর্ণিত হয়েছে যে, তারপর মদীনায় তিনি দশ বছর অতিবাহিত করেন।
এ ব্যাপারে হাদীসের সকল বর্ণনা ও জমহুর মুহাদ্দিসিন ঐক্যমত্য পোষণ করেন যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় হিজরত করার পর দশ বছর অবস্থান করেন, এতে করে ৪০ বছর বয়সে নাবুওয়াত লাভ ও তারপর মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান এবং মদীনায় ১০ বছর অবস্থান মোট (৪০ + ১৩ + ১০ ) = ৬৩ বছর হায়াত লাভ করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)।
(ঘ) উল্লেখিত হাদীসে আরো বলা হয়েছে যে, তারপর ৬০ বছর বয়সে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। স্মরণ রাখা দরকার যে, ইন্তিকালের সময় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বয়স সম্পর্কে তিন ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন-
(১) ৬০ বছর, যা হযরত আনাস (রাঃ) হতে জামেয়ে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত হয়েছে ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৬০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।
(২) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন, যা হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)হতে সহীহ মুসলিম ও জামেয়ে তিরমিজী শরীফে বর্ণিত হয়েছে ঃ

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। [জামেয়ে তিরমিজীঃ ২/২০৩; সহীহ মুসলিমঃ ২/৬০]
অনুরূপ বর্ণনা সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত আনাস (রাঃ) হতেও এসেছে। এই বর্ণনাই সঠিক ও শুদ্ধ ও স্বীকৃত।
(৩) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৬৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, যেমন জামেয়ে তিরমিজী শরীফে হযরত আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ৬৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।
তবে এ বর্ণনাকে হযরত ওরওয়া (রহঃ) ভুল বলে অভিহিত করেছেন। তাই ৬৫ সাল সম্বলিত বর্ণনাটি বিশুদ্ধতা হারিয়েছে।
সে যাই হোক নূর নবী মোহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্বায় জন্মগ্রহণ করেন। যখন তিনি ৪০ বছরে উপনীত হন তখন সত্য স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে রবিউল আউয়্যাল মাস থেকে নাবুওয়াত লাভের ধারা শুরু হয়। এ ধারা ছয় মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

তারপর তিনি জাগ্রতাবস্থায় পরবর্তী রমজান মাসে অহী লাভ করেন। মক্কায় ৫৩ বছর পর্যন্ত অবস্থান করেন। তারপর মদীনায় হিজরত করেন।
তিনি মদীনায় দশ বছর অতিবাহিত করেন ও ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এদিক নির্দেশনাই সঠিক ও সর্বজনগ্রাহ্য।