নেপথ্যে মিয়ানমার সংযোগ ও অপরাধের উত্থান
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই আবছারের পিতা আশরাফ ও মাতা নুর আয়েশা বহু বছর পূর্বে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে অবৈধভাবে উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর উপজেলা এলাকায় ভাসমান জীবনযাপনের সুযোগে আবছার ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়ে এবং একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। একাধিক বিয়ে, কক্সবাজার সদর থানার সোর্স হিসেবে কাজ করা এবং স্থানীয় ঝিলংজা আওয়ামীলীগ নেতা কুদরত উল্লাহ’র মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার ক্ষমতার উত্থান শুরু হয়।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও হয়রানি
বিগত সরকারের আমলে এই আবছার নিজেকে বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নিরীহ জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতো এবং আওয়ামী পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতো। তবে, সরকার পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই সে রাতারাতি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় চলে আসে এবং নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ কর্মীদেরকে পুলিশি ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতে শুরু করে। আবছারের এই 'গিরগিটির মতো রং বদলানো'র কৌশল তার খুঁটির জোরের মূল রহস্য বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
'সাংবাদিক' পরিচয়ে তদবির ও ব্ল্যাকমেইল
সাম্প্রতিক সময়ে এই আবছার মোবাইলে লাইভ করে নিজেকে কথিত 'সাংবাদিক' পরিচয় দিয়ে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন অফিসে অবাধে চাঁদাবাজি ও তদবিরবাজী চালিয়ে যাচ্ছিল। লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে লোক ভাড়া করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা তার একটি পরিচিত কৌশল।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলার নাটক
সর্বশেষ, এই দালাল আবছার কক্সবাজার সদর মডেল থানার সামনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দানবীর আবদুল্লাহ আল মাসুদ রুমেল, যিনি 'নুর-আন' ম্যানশন-এর মালিক, তার নিকট হতে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। রুমেল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আবছার তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে বিভিন্ন কুটক্তিমূলক লাইভ শুরু করে।
কিন্তু সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যখন আবছার প্রতিপক্ষ দ্বারা বশীভূত হয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নির্যাতিত মহিলা লামি (ছদ্মনাম)-কে দিয়ে নাটক সাজায়। লামি ঢাকা কোর্টে মামলা করতে গেলে আবছারের খপ্পরে পড়ে যায়। অভিযোগ আছে, এই দালাল আবছার সেই মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করে টাকার লোভ দেখিয়ে রুমেল সাহেবসহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার কোর্টে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করায়।
মামলাটি বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা নং-৭৩/৬১৮, তারিখ-২৮/১০/২০২৫ ইং, ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৩০ হিসেবে রুজু হয়।
তদন্তে ফাঁস হলো প্রতারণার জাল
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি অপারেশন জনাব আবু হানিফ মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার বক্তব্যে অসংলগ্নতা পান। এরপর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের মাধ্যমে মেয়েটির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। মেয়েটি আদালতকে জানায়, তাকে মাত্র ০২ জন ধর্ষণ করেছে। কিন্তু এই দালাল আবছার রুমেল সাহেব সহ আরো ০২ জনকে আসামী করার জন্য তাকে চাপ দেয় এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়। মেয়েটি আদালতকে নিশ্চিত করে যে এই তিনজনকে সে চিনেই না, আবছারের চাপেই সে তাদের নাম বলেছে।
বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই এই দালাল আবছার আত্মগোপনে চলে যায় এবং মেয়েটিকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে।
জনমনে শঙ্কা: পুলিশের নীরবতা কেন?
কক্সবাজারের সাধারণ আমজনতা এখন উদ্বিগ্ন। এত গুরুতর অভিযোগ ও মামলার সাক্ষী থাকার পরেও কেন এই দালাল আবছারকে জেলা পুলিশ (সদর) এখনও গ্রেফতার করেনি? জনগণ আশঙ্কা করছে, এই দালাল আবছারের সিন্ডিকেটের প্রভাবে নিরীহ লোকজনেরাই আবার হয়রানির শিকার হতে পারে। জনশ্রুতি আছে যে, এই দালাল আবছার থানার পেছনের হোটেলে 'কথিত সাংবাদিক' ও 'সেতু টিভি' নামক চ্যানেলের মালিক দাবীদার ওবাইদুল্লাহ’র সাথে নিয়মিত আনাগোনা করে।
প্রশ্ন এখন একটাই, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের জাল বিস্তার করা এই 'ভাইরাল আবছারে'র খুঁটির জোর আসলে কোথায়? সাধারণ মানুষ দ্রুত এই দালাল ও প্রতারককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।