calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / অন্যান্য / রমজানের রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ হয়েছিল কখন?
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন

রমজানের রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ হয়েছিল কখন?

রমজান— রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। এটি বছরের সেরা মাস, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর বিশেষ দয়ার প্রতীক। কুরআন ও হাদিসে রমজানের অসংখ্য ফজিলত ও মর্যাদা উল্লেখিত। এই মাসের রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ। তবে প্রশ্ন আসে...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ • বিকাল ০৪:৩২
history আপডেট: ৭ মাস আগে
timer ৬ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১৩৭ বার পঠিত

নবীজির প্রস্তুতি ও ফরজ হওয়ার সময়

নবীজি (সা.) রজব ও শাবান মাস থেকেই রমজানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রেখে তিনি নিজেকে রমজানের ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করতেন। তবে রমজানের রোজা তার নবুওয়াতের সঙ্গে সঙ্গে ফরজ করা হয়নি। এটি দ্বিতীয় হিজরিতে ফরজ হয়।

মদিনায় দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান থেকে মুসলিমদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ হয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন—

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلٰى مَا هَدٰىكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কুরআন। মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ রোগাক্রান্ত বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে তা পূরণ করবে। আল্লাহ চান তোমাদের জন্য সহজতা, কষ্ট নয়, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৫)

এরপর থেকেই মুসলিম উম্মাহ বরকতময় রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করছেন।


রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে অন্য কোনো রোজা ফরজ ছিল কিনা তা নিয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু সূত্রে বলা হয়, রমজানের আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। অন্যদের মতে, আইয়্যামে বিজের রোজা (আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা) ফরজ ছিল।

প্রাক ইসলামি যুগে কুরাইশরা ১০ মহররমের রোজা রাখত। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন—

‘জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত এবং নবীজিও এটি পালন করতেন। মদিনায় আগমনের পরও তিনি এই রোজা নিজে পালন করতেন ও অন্যদের পালন করতে আদেশ দিতেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

বেশির ভাগ ফকিহ ও মুহাদ্দিসের মতে, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ওয়াজিব ছিল, যা পরবর্তীতে নফলে পরিণত হয়।

রমজানের রোজা: ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন

রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمُ لَعَلَّکُمُ تَتَّقُوۡنَ

‘হে মুমিনেরা! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের মানুষের জন্য, যেন তোমরা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) মোট ৯ বছর রমজানের রোজা রেখেছেন। তিনি দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে ফরজ হওয়ার পর থেকে রোজা নিয়মিত আদায় করতেন। নবীজি (সা.) একাদশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।

রমজানের রোজা মুসলমানদের ওপর ফরজ হওয়ার ইতিহাস মুসলিম উম্মাহকে আত্মসংযম, ধৈর্য ও আল্লাহভীতি অর্জনের শিক্ষা দেয়। নবীজির উদাহরণ, কুরআন ও সাহাবায়ে কেরামের অনুশীলন এই মাসের রোজাকে ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ রুকনে পরিণত করেছে। প্রতিটি রোজা শুধু রোদের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দূর করার মাধ্যম নয়, বরং তা আত্মশুদ্ধি, ইমানের জোর এবং আল্লাহর কাছে সওয়াব অর্জনের এক মহান সুযোগ।