calendar_today সোমবার, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ দৈনিক বাংলার ডাক - শীর্ষ বাংলা অনলাইন পত্রিকা ও ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ
কুরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে জাকারিয়াপ্রথম বাংলাদেশি , আনন্দে মাতোয়ারা তার গ্রাম ◆ সরকার উৎখাতের চেষ্টায় কী পেল আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সাত দশকের ? ◆ ইউনূস আমলের ১৮ মাস: উঠেছে যেসব গুরুতর আইনি প্রশ্ন ◆ আধুনিক ও সবুজ ঢাকা গড়তে একসঙ্গে কাজ করবে এবিজি-ডিএনসিসি ◆ আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ ◆ মরিনহোর জাদুতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় কোর্তোয়া ◆ ​শিক্ষকতা থেকে রাজনীতি: সততা ও ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত ◆ ব্যাংক খাত সংস্কার ও পুনঃমূলধনীকরণের উদ্যোগ ‎এডিবির সহায়তায় ◆ সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ◆ নিঝুম দ্বীপের বালির ২৫ শতাংশই ভারী খনিজ ◆ এবার জেন আলফার আন্দোলনে উত্তাল ভারত,জেন জি’র পর ◆ ফ্যাসিস্ট’ তকমার আড়ালে কি চাপা পড়ছে ইতিহাসের প্রশ্ন?
home হোম / অন্যান্য / ফিতরা যেভাবে আদায় করবেন
stars বিশেষ প্রতিবেদন এক্সক্লুসিভ
অন্যান্য বিশেষ প্রতিবেদন

ফিতরা যেভাবে আদায় করবেন

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসের শেষে মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। এটি শুধু দরিদ্র মানুষের সহায়তার মাধ্যমই নয়, বরং রোজাদারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করারও একটি...

person
বিশেষ প্রতিনিধি verified
Reporter
schedule প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ • দুপুর ০১:৫৬
history আপডেট: ৭ মাস আগে
timer ৯ মিনিট পড়ার সময়
visibility ১২৬ বার পঠিত

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব

যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া, বালেগ হওয়া বা মুকিম হওয়া শর্ত নয়।

অতএব অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তাহলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ ও মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পদ থাকলে তার অভিভাবক সেই সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করবেন।

عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ عَلَى الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড় সবার ওপর সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন।’ (রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৯)

ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি

হাদিসে মোট পাঁচ ধরনের খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলো হলো—

১. যব

২. খেজুর

৩. পনির

৪. কিশমিশ

৫. গম

এই পাঁচটির মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দিয়ে ফিতরা দিতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে, যা কেজির হিসাবে প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দিয়ে ফিতরা আদায় করলে আধা সা‘ দিতে হবে, যা কেজির হিসাবে প্রায় ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম।

উল্লেখ্য, হাদিসে এই পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনো একটি দিয়ে ফিতরা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে মুসলমানরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তা আদায় করতে পারেন।

তাই যার সামর্থ্য আছে তিনি উন্নতমানের আজওয়া খেজুর হিসাবেও ফিতরা আদায় করতে পারেন। কারও সাধ্য হলে পনির হিসাবেও দিতে পারেন। এরচেয়ে কম আয়ের মানুষ খেজুর বা কিশমিশের মূল্য হিসাবেও দিতে পারেন। আর যাদের জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তারা গমের হিসাবেই ফিতরা আদায় করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ

‘আর কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি সৎকাজ করলে তা তার জন্য উত্তম।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৪)

মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায়

হাদিসে বর্ণিত খাদ্যদ্রব্য দিয়ে যেমন ফিতরা দেওয়া যায়, তেমনি সেগুলোর মূল্য দিয়েও ফিতরা আদায় করা জায়েজ। কুররা (রাহ.) বলেন—

‘আমাদের কাছে ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহ.)-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হলো প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির পক্ষ থেকে অর্ধ সা‘ গম অথবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১০৪৭০)

বিশিষ্ট তাবেয়ি আবু ইসহাক (রাহ.) বলেন—

‘আমি সাহাবা ও তাবেয়িগণকে খাদ্যের মূল্য দিয়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি।’ (বুখারি ১/১৯৪, উমদাতুল কারী ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১০৪৭২, কিতাবুল আছল ২/১৮০)

চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা

চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ১০৪৭২, কিতাবুল আছল ২/১৮০, আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১১৪, ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/২৪৭, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৫৫)

ফিতরা বিতরণের বিধান

একজন দরিদ্র মানুষকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। তবে একটি ফিতরা কয়েকজন গরিবের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া জায়েজ। একইভাবে একাধিক ব্যক্তির ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া বৈধ। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৬৭)

প্রবাসে অবস্থানরতরা যেভাবে ফিতরা আদায় করবেন

কেউ যদি বিদেশে অবস্থান করে এবং তার ফিতরা দেশে আদায় করতে চান, তাহলে যে দেশে তিনি অবস্থান করছেন সেই দেশের হিসাব অনুযায়ী ফিতরা দিতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ— কেউ যদি সৌদি আরবে অবস্থান করেন এবং তার ফিতরা বাংলাদেশে আদায় করতে চান, তবে সৌদি আরবে নির্ধারিত ন্যূনতম ফিতরার মূল্য যদি ৮০০ টাকা সমপরিমাণ হয়, তাহলে বাংলাদেশেও তার পক্ষ থেকে ৮০০ টাকা হিসাবেই ফিতরা আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আলমুহিতুল বুরহানি ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৫)

অধীনদের ফিতরা

অধীনদের ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থলই ধর্তব্য হবে। তাই কেউ যদি প্রবাসে থাকেন এবং তার নাবালেগ সন্তান দেশে থাকে, তবুও সেই সন্তানের ফিতরা প্রবাসের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/২৮৯)

সাদাকাতুল ফিতর ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক ইবাদত। এটি দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটায় এবং ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে এটি রোজাদারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে তার ইবাদতকে পরিপূর্ণ করে। তাই সামর্থ্যবান মুসলমানদের উচিত যথাসময়ে এবং যথাযথ নিয়মে ফিতরা আদায় করা। এতে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, তেমনি সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠা পায়।

tag ট্যাগ: #যেভাবে