বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াও সাধারণ চিকিৎসকের অন্যান্য পদেও সংকট রয়েছে। এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাদে মঞ্জুরি করা সাধারণ চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের মধ্যে ২৯.১ ভাগ মানে ৯৪টি পদ শূন্য; কর্মরত আছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্টের মঞ্জুরি করা ৮ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪ জন, এখানে বাকি ৪টি পদ শূন্য। আবাসিক চিকিৎসকের ১২ পদের মধ্যে ২টি ও রেজিস্ট্রার পদের ৪৯ টির মধ্যে ১৫টি পদ শূন্য। সহকারী রেজিস্ট্রারের ৯৬টি পদের মধ্যে ৩০টি ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের (মেডিকেল অফিসার) ১৪টি পদের মধ্যে ২টি পদ খালি। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের ১০টি পদের মধ্যে ৬টি ও সহকারী সার্জন (আন্ত ও বহির্বিভাগ) পদের ২২টির মধ্যে ১৪টি শূন্য। রেডিওলজিস্টের ৪টি পদের মধ্যে ২টি ও ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টের ৫ পদের মধ্যে ১টি শূন্য। মেডিকেল অফিসারের (ওপিডি) ২৮ পদের মধ্যে ১টি ও মেডিকেল অফিসারের (আইএমও) ৪০টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য। মেডিকেল অফিসারের (নেফ্রোলজি) ৩টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য। এছাড়া ডেন্টাল সার্জনের ১৩ পদের মধ্যে ৯টি পদ খালি রয়েছে। কাগজে-কলমে ১ হাজার শয্যার এ হাসপাতালের আন্তবিভাগেই প্রতিদিন ২ হাজার রোগী ভর্তি থেকে সেবা নিচ্ছে। এছাড়া বহির্বিভাগে আরও ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। এসব রোগীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে যে সংখ্যক চিকিৎসক দরকার, সেই সংখ্যক পদ আজ পর্যন্ত মঞ্জুর করা হয়নি। যে সংখ্যক চিকিৎসকের পদ মঞ্জুর করা হয়েছে, তাতেও শতভাগ পদায়ন নেই।
রোগী তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে ওয়ার্ডগুলোতে ভর্তি রোগীরাও শতভাগ সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালে দায়িত্বরত একাধিক চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকায় আমরা রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি না।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসাস্থল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট দ্রুত দূর করতে হবে। তা না হলে রোগীরা কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে না। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। শূন্যপদে নিয়োগে নিয়মিত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানান তিনি।