গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, জীবনধারা, শখ এবং ব্যক্তিত্বের প্রধান পাঁচটি বৈশিষ্ট্য— উন্মুক্ততা, সততা ও দায়িত্বশীলতা, বহির্মুখীতা, অমায়িকতা এবং মানসিক অস্থিরতা পরিমাপ করা হয়।
মজার বিষয় হলো, স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ব্লু জোনের বাসিন্দারা অন্য এলাকার চেয়ে খুব বেশি এগিয়ে ছিলেন না। তবে যে বিষয়টি তাদের পুরোপুরি আলাদা করেছে, তা হলো তাদের উচ্চমাত্রার ‘ওপেননেস’ বা উন্মুক্ত মানসিকতা।
এর অর্থ হলো, এই মানুষগুলোর মধ্যে নতুন কিছু জানার কৌতূহল, শেখার মানসিকতা এবং নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া তাদের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি এবং তারা জটিল বা বুদ্ধিবৃত্তিক শখের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করেন।
সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে উন্মুক্ত মানসিকতার মানুষ মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকেন। দায়িত্বশীল ও সচেতন মানুষ জীবনের প্রতি বেশি সন্তুষ্ট থাকেন।
অন্যদিকে, যাদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা বেশি, তাদের জীবনের গুণগত মান তুলনামূলকভাবে কম।
ব্যক্তিত্ব কীভাবে আয়ু বাড়ায়?
গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, ব্যক্তিত্ব সরাসরি মানুষের আয়ু বাড়িয়ে দেয় না। বরং এটি মানুষের অভ্যাস গঠনে সাহায্য করে। কৌতূহলী থাকা, সক্রিয় থাকা এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার মতো অভ্যাসগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে।
যদিও এই গবেষণাটি সীমিত পরিসরে করা হয়েছে এবং এটি সরাসরি কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না, তবুও এটি স্পষ্ট করে যে—দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের গল্পে ডায়েট এবং ব্যায়ামের পাশাপাশি মানুষের মানসিক বৈশিষ্ট্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনডিটিভি