আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অনিক পিতৃহারা হওয়ার পর আমার জীবনে অনেকেই আসতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে পরিবারের সম্মতিও ছিল। কিন্তু আমি শুধু আমার সন্তানের মাঝেই মিশে গেলাম। আমি একজন সিঙ্গেল পেরেন্ট হিসেবে অনিকের মা এবং বাবা—দুই ভূমিকাই পালন করেছি।
আজ অনিক অনেক বড় হয়েছে। কানাডার বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে। আমি আমার এই পড়ন্ত বেলায় প্রায়ই কানাডা যাই আমার অনিকের সংস্পর্শে থাকতে। অনিক আমাকে জীবনে চলার পথের আলো দেখিয়েছে। বাকি জীবন আমি আমার সন্তানের ভালোবাসা নিয়ে চলে যেতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি নারীর পূর্ণতা আসে তার মাতৃত্ব দিয়ে। সন্তান একজন মায়ের জীবনে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার যা মহান আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।’
মাতৃত্ব প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতিও টানেন তিনি। সূরা কাহাফের ৪৬ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ‘‘‘ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’’ মহান আল্লাহ আমাকে সেই নেয়ামত দিয়েছেন।’
সবশেষে ববিতা বলেন, ‘আমি জানি না একজন মা হিসেবে আমি কতটুকু স্বার্থক। কিন্তু আমার সবটুকু আমার সন্তান অনিককে ঘিরে। আপনারা অনিক এবং আমার জন্যে দোয়া করবেন।’
উল্লেখ্য, আলী-রূপা ফাউন্ডেশন–এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শুধু ববিতা নন, অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম, নাজনিন হাসান চুমকি, সংগীতশিল্পী রাশেদ, অভিনেত্রী হিমি, উপস্থাপিকা ফারহানা ন্যান্সিসহ মোট ১২ জন গুণী ব্যক্তির মায়েদেরও দেওয়া হয় ‘মা পদক ২০২৬’।
ববিতা দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ২৭৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দেশের বিখ্যাত সব নির্মাতার পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনের সুপরিচিত নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন তিনি।